আমেরিকায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নৈশভোজ অনুষ্ঠানে এক ভয়াবহ বন্দুকবাজের হামলার ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শনিবার রাতে ওয়াশিংটন ডিসির হিলটন হোটেলে এই হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই প্রধানমন্ত্রী এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে পোস্ট করে জানান যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং ফার্স্ট লেডি মেলেনিয়া ট্রাম্প নিরাপদ থাকায় তিনি স্বস্তি বোধ করছেন। প্রধানমন্ত্রী কড়া ভাষায় এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে লেখেন, “গণতন্ত্রে হিংসার কোনও স্থান নেই।”
নৈশভোজে শিউরে ওঠা মুহূর্ত:
জানা গিয়েছে, হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস ডিনারের সময় ক্যালিফোর্নিয়ার এক ৩১ বছর বয়সী যুবক হঠাৎই নিরাপত্তার ঘেরাটোপ ভেঙে গুলি চালাতে শুরু করেন। প্রায় ৪-৫ রাউন্ড গুলি চলে এবং সেই সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মেলেনিয়া ট্রাম্প মঞ্চের খুব কাছেই ছিলেন। সিক্রেট সার্ভিসের তৎপরতায় তাঁদের দ্রুত নিরাপদে সরিয়ে আনা হয়। ট্রাম্প জানান, হামলাকারী যুবকটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হলেও তাঁর এক সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টের গায়ে গুলি লাগে, তবে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট থাকায় ওই এজেন্টের প্রাণ রক্ষা পেয়েছে।
মোদী বনাম ট্রাম্প: কূটনৈতিক টানাপোড়েন ও মানবিকতা:
এই হামলার ঘটনার কয়েক দিন আগেই ভারত সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন ট্রাম্প। তিনি ভারতকে ‘হেলহোল’ বা নরককুণ্ড বলে অভিহিত করেন এবং সেখানে বসবাসকারী ভারতীয়দের আক্রমণ করে মন্তব্য করেন। নয়া দিল্লি সেই সময় ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে ‘অজ্ঞাত’ ও ‘অনুচিত’ বলে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল। তবে সেই তিক্ততা দূরে সরিয়ে রেখে ট্রাম্পের ওপর হামলার পর প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁর সুস্বাস্থ্য কামনা করেছেন।
তদন্তে প্রশাসন:
ইতিমধ্যেই হামলাকারীকে মাটিতে ফেলে কাবু করার ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন খোদ ট্রাম্প। ওয়াশিংটন ডিসির পুলিশ এবং তদন্তকারী সংস্থাগুলি খতিয়ে দেখছে যে ওই যুবকের আসল উদ্দেশ্য কী ছিল। ট্রাম্পের দাবি, হামলাকারী মানসিকভাবে অসুস্থ ছিল এবং তার কাছে একাধিক অস্ত্র ছিল। এই হামলার ঘটনা আমেরিকার আসন্ন নির্বাচন এবং বিশ্ব কূটনীতিতে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।





