“গণতন্ত্রে হিংসার জায়গা নেই!” ট্রাম্প-মেলানিয়ার ওপর হামলায় হাড়হিম করা পরিস্থিতি, পাশে দাঁড়ালেন মোদী

ওয়াশিংটনের অভিজাত হিল্টন হোটেলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর ফের প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে তোলপাড়। এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ট্রাম্পের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, সভ্য সমাজ এবং গণতন্ত্রে হিংসার কোনও স্থান হতে পারে না।

নিরাপত্তা বলয় ভেদ করে বন্দুকবাজ!
শনিবার রাতে যখন ‘হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস ডিনার’ উপলক্ষে হিল্টন হোটেলের বলরুমে ট্রাম্প, ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স-সহ ২৬০০ অতিথি উপস্থিত ছিলেন, ঠিক তখনই হোটেলের লবিতে গুলির শব্দ শোনা যায়।

আতঙ্কিত অতিথিরা: গুলির আওয়াজ আসামাত্রই আতঙ্কে টেবিলের নিচে লুকিয়ে পড়েন উপস্থিত সাংবাদিক ও অভিনীতরা।

সক্রিয় সিক্রেট সার্ভিস: মুহূর্তের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ও ফার্স্ট লেডিকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যান সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টরা। হামলাকারীকে দ্রুত আটক করা হয়েছে। ট্রাম্প একে একটি ‘লোন উল্ফ’ আক্রমণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

বন্ধুর পাশে মোদী: এক্স হ্যান্ডেলে কড়া বার্তা
ঘটনার পরপরই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) তাঁর উদ্বেগ ও স্বস্তি প্রকাশ করে লেখেন:

“প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, ফার্স্ট লেডি এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট নিরাপদ ও অক্ষত আছেন জেনে স্বস্তি পেয়েছি। তাঁদের দীর্ঘায়ু ও নিরাপত্তা কামনা করি। গণতন্ত্রে হিংসার কোনও স্থান নেই এবং একে অবশ্যই নির্দ্বিধায় প্রত্যাখ্যান করতে হবে।”

নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন
২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচার থেকে শুরু করে এ নিয়ে মোট তিনবার ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর হামলার চেষ্টা হল। আমেরিকার মতো দেশে খোদ প্রেসিডেন্টের অনুষ্ঠানে কীভাবে বারবার বন্দুকবাজ ঢুকে পড়ছে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী মোদী ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ব্যক্তিগত বন্ধুত্ব অত্যন্ত উষ্ণ। ভারতের কৌশলগত অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে এই দুই নেতার রসায়ন বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ। ফলে ট্রাম্পের ওপর হামলার ঘটনায় দিল্লির এই দ্রুত প্রতিক্রিয়া দুই দেশের সম্পর্কের গভীরতাকেই আরও একবার প্রমাণ করল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy