গঙ্গায় ভেসেল উল্টে মর্মান্তিক মৃত্যু ১৪ জনের, শোকের মাতম পরিবারে

আনন্দ আর উৎসবের আবহে এক মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনার সাক্ষী থাকল বিহারের বৈশালী জেলার হাজিপুর। মঙ্গলবার গভীর রাতে গঙ্গা নদীতে একটি ভেসেল বা নৌকা উল্টে গিয়ে অন্তত ১৪ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মৃতদের মধ্যে বেশিরভাগই অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু রয়েছে, যা গোটা এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, একটি পারিবারিক নেমন্তন্ন বাড়ি বা ভোজ খেয়ে নদীপথে নিজেদের গ্রামে ফিরছিলেন যাত্রীরা। আর সেই ফেরার পথেই নেমে এল এক লহমায় নেমে এল গভীর অন্ধকার।

স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, দুর্ঘটনার কবলে পড়া ওই ভেসেল বা নৌকাটিতে মোট ২৩ জনেরও বেশি যাত্রী সওয়ার ছিলেন। নদীপথে রাঘোপুরের রামপুর শ্যামচাঁদ গ্রামের কাছাকাছি পৌঁছানোর পরেই হঠাৎ করে নদীর জলে প্রবল ঢেউ ও স্রোত বাড়তে শুরু করে। মাঝনদীতে জলরাশির এই আকস্মিক উত্তাল রূপ সামাল দিতে পারেননি মাঝিরা। যার জেরে ভারসাম্য হারিয়ে মাঝনদীতেই উল্টে যায় যাত্রবোঝাই নৌকাটি। রাতের অন্ধকারে মুহূর্তে জলের তলায় তলিয়ে যান যাত্রীরা। দুর্ঘটনার খবর চাউর হতেই স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও প্রশাসন দ্রুত তৎপর হয়ে উদ্ধারকাজে নামে। মঙ্গলবার রাত থেকে শুরু হওয়া সেই উদ্ধার অভিযান বুধবার সকালেও টানা চলেছে।

পুলিশ ও জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট ১৪ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়াও ৬ জন যাত্রীকে গুরুতর আহত অবস্থায় নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং সৌভাগ্যবশত ৩ জন যাত্রী নিরাপদে রক্ষা পেয়েছেন। নিহতদের দেহগুলি শনাক্তকরণের কাজ সম্পন্ন করে ময়নাতদন্তের জন্য সরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এই লোমহর্ষক ঘটনার খবর পেয়েই বিহার সরকার নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে চার লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে।

এদিকে, এই মর্মান্তিক নৌকাডুবির খবর ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিক মাধ্যমে একাধিক ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায়, যেখানে দুর্ঘটনাস্থলে স্থানীয় মানুষের উপচে পড়া ভিড় এবং উদ্ধারকাজের তৎপরতা পরিষ্কার ফুটে উঠেছে। বিহারের রাজনৈতিক মহলেও এই ঘটনায় তীব্র শোকপ্রকাশ করা হয়েছে। রাজ্যের প্রাক্তন উপ-মুখ্যমন্ত্রী তেজস্বী যাদব, উপ-মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী চিরাগ পাসওয়ানের মতো বিশিষ্ট রাজনৈতিক নেতারা এই দুর্ঘটনায় গভীর শোক ব্যক্ত করেছেন। উৎসবের মুখে এই আকস্মিক ট্র্যাজেডিতে গোটা হাজিপুর তথা বিহারজুড়ে এখন শোকের আবহ বিরাজ করছে।