পুজোর আনন্দ মাটি হবে না তো? ষষ্ঠী আসতেই আবহাওয়ায় বিরাট চমক, আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের বড় আপডেট!

পুজো মানেই নতুন জামা, ঠাকুর দেখা আর জমজমাট আড্ডা। কিন্তু উৎসবের আনন্দ ম্লান করতে আকাশে কি মেঘের আনাগোনা থাকবে? আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, দুর্গাপুজোর দিনগুলিতে বিক্ষিপ্তভাবে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সামান্য সম্ভাবনা থাকলেও ভারী বৃষ্টি বা বড়সড় দুর্যোগের কোনো আশঙ্কা নেই। বিশেষ করে ষষ্ঠী পেরোলেই বাংলার আবহাওয়ার আরও উন্নতি হতে পারে। ইতিমধ্যে রাজ্যের অধিকাংশ এলাকা থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বিদায় নিয়েছে। অন্যদিকে, সম্ভাব্য নিম্নচাপের অভিমুখ দক্ষিণ ভারতের দিকে থাকায় বাংলায় তার বড়সড় প্রভাব পড়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। ফলে পুজোর দিনগুলিতে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির চোখরাঙানি থাকলেও সামগ্রিকভাবে আবহাওয়া অনুকূল থাকার সুসংবাদ শোনিয়েছে হাওয়া অফিস।

আজ চতুর্থীতে কলকাতা, হাওড়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কোনো ভারী বৃষ্টির সতর্কতা নেই। বাকি জেলাগুলিতে আবহাওয়া মূলত শুকনোই থাকবে। এরপর পঞ্চমীতে বৃষ্টির পরিধি কিছুটা বেড়ে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। কলকাতা, হাওড়া, দুই ২৪ পরগনা, দুই মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। পাশাপাশি নদীয়া, হুগলি, দুই বর্ধমান, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়াতেও বৃষ্টির দেখা মিলতে পারে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, কোনো জেলাতেই বড়ো দুর্যোগের কোনো সতর্কতা জারি করা হয়নি। উত্তরবঙ্গের আবহাওয়া এই কদিন মূলত শুষ্কই থাকবে।

ষষ্ঠীর দিনে উপকূলবর্তী জেলা ও দুই মেদিনীপুরে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য জেলাতেও কোথাও কোথাও হালকা ছিটেফোঁটা বৃষ্টি হতে পারে। উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, কালিম্পং ও জলপাইগুড়িতেও বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে, তবে ভারী বৃষ্টির কোনো আশঙ্কা নেই। প্রথম সপ্তমীতে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় এবং উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি এলাকায় হালকা বৃষ্টি হতে পারে। দ্বিতীয় সপ্তমীতে বৃষ্টির সম্ভাবনা মূলত দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর এবং দার্জিলিংয়ে সীমাবদ্ধ থাকবে। রাজ্যের বাকি অংশে আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক ও মনোরম থাকার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।

অষ্টমীর দিন উপকূলবর্তী এলাকায় সামান্য হালকা বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকলেও রাজ্যের বাকি অংশে আবহাওয়া তুলনামূলকভাবে অনেকটাই ভালো ও পরিষ্কার থাকবে। অন্যদিকে, নবমী, দশমী ও একাদশীতে রাজ্যের অধিকাংশ জায়গায় সম্পূর্ণ শুষ্ক আবহাওয়া বজায় থাকার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। এমনকি এই দিনগুলিতে ভোরের দিকে হালকা শীতের আমেজও অনুভূত হতে পারে, যা পুজোর আনন্দকে দ্বিগুণ করে তুলবে। সবমিলিয়ে, পুজোর শুরুতে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সামান্য বাধা থাকলেও ষষ্ঠীর পর থেকে আবহাওয়া পুরোপুরি অনুকূল হওয়ার সুসংবাদ মিলেছে। ভারী বৃষ্টি বা দুর্যোগের কোনো পূর্বাভাস না থাকায় বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসবের আনন্দে কোনো বাধা থাকছে না বললেই চলে।