গগনচুম্বী শক্তি: ১১৪টি রাফাল ও মিটিওর মিসাইলে আকাশ দখলে ভারতের নয়া রণকৌশল

ভারতীয় বায়ুসেনার সক্ষমতাকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে এমআরএফএ (MRFA) কর্মসূচির আওতায় ১১৪টি অত্যাধুনিক রাফাল যুদ্ধবিমান সংগ্রহের প্রক্রিয়া দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। প্রায় ৩.২৫ লক্ষ কোটি টাকা মূল্যের এই মেগা প্রতিরক্ষা চুক্তিটি কেবল ভারতের নয়, এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ এবং প্রভাবশালী সামরিক প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো ভারতীয় বায়ুসেনার ‘বিয়ন্ড ভিজ্যুয়াল রেঞ্জ’ (BVR) বা দৃষ্টিসীমার বাইরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার ক্ষমতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে তোলা, যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে রাফালের বিধ্বংসী অস্ত্র—‘মিটিওর’ (Meteor) ক্ষেপণাস্ত্র।
বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী আকাশ-থেকে-আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবে স্বীকৃত ‘মিটিওর’। এতে ব্যবহৃত ‘থ্রটলেবল র্যামজেট’ ইঞ্জিন এটিকে ‘ম্যাক ৪’-এর চেয়েও বেশি গতি প্রদান করে। মাত্র ৯০ সেকেন্ডের মধ্যে ১০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে সক্ষম এই ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তুকে নিমিষেই ধ্বংস করতে পারে। তবে এখানেই শেষ নয়; ভারতীয় বায়ুসেনা এখন এই ক্ষেপণাস্ত্রের একটি উন্নত সংস্করণ অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করছে। স্প্যানিশ সংস্থা ‘ইন্দ্র’ এবং ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাতা ‘এমবিডিএ’-এর যৌথ উদ্যোগে তৈরি একটি অত্যাধুনিক ডেটালিঙ্ক প্রযুক্তি এই ক্ষেপণাস্ত্রকে আরও প্রাণঘাতী করে তুলবে। এই প্রযুক্তির ফলে পাইলট ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের পরেও সেটির গতিপথ পরিবর্তন বা লক্ষ্যবস্তুর হালনাগাদ তথ্য পাঠাতে পারবেন।
নতুন এই ব্যবস্থায় যুক্ত হচ্ছে উচ্চমানের ইসিসিএম (ECCM) প্রযুক্তি, যা শত্রুপক্ষের শক্তিশালী ইলেকট্রনিক জ্যামিংয়ের মুখেও ক্ষেপণাস্ত্রটিকে তার লক্ষ্য খুঁজে পেতে সহায়তা করবে। রাফালের শক্তিশালী RBE2 AESA রাডার থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এটি উড্ডয়নরত অবস্থায় যেকোনো মুহূর্তে লক্ষ্যবস্তু পরিবর্তনের সক্ষমতা রাখে, যা নেটওয়ার্ক-কেন্দ্রিক আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমানে থাকছে ভারতের জন্য বিশেষ ১৩টি সক্ষমতা (India-Specific Enhancements)। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ইসরায়েলি প্রযুক্তির ‘হেলমেট-মাউন্টেড ডিসপ্লে’ (HMD), যা পাইলটকে কেবল মাথা ঘুরিয়ে শত্রুকে লক করার সুবিধা দেবে। এছাড়া লেহ-র মতো উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে অপারেশনের জন্য ‘কোল্ড স্টার্ট’ ব্যবস্থা এবং চীন ও পাকিস্তানের রাডার ব্যবস্থাকে অকেজো করার মতো উন্নত ‘স্পেকট্রা’ (SPECTRA) ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম এতে যুক্ত থাকবে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রযুক্তির সংমিশ্রণ ভারতীয় বায়ুসেনাকে আকাশযুদ্ধে এমন এক সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছে দেবে, যা চীন বা পাকিস্তানের বিমানবাহিনীর পক্ষে মোকাবিলা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন ভারতের আকাশসীমাকে এক সুরক্ষিত ও অপরাজেয় দুর্গে পরিণত করবে।