‘খেল তো সবে শুরু!’ মন্ত্রী হয়েই চেনা মেজাজে দিলীপ, ইকোপার্কে পিসি-ভাইপোকে তুলোধনা

শনিবারই রাজভবনে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন তিনি। কিন্তু রাত পোহাতেই দেখা গেল, মন্ত্রিত্বের গুরুভার তাঁর স্বভাবসিদ্ধ ‘দিলীপীয়’ মেজাজে বিন্দুমাত্র পরিবর্তন আনতে পারেনি। রবিবার সকালে কলকাতার ইকোপার্কে প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে একযোগে তীব্র আক্রমণ শানালেন নবনিযুক্ত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।

এদিন সকালে অভ্যাসমতো ইকোপার্কে হাঁটতে আসেন দিলীপ ঘোষ। সেখানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হতেই তিনি আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। সরাসরি তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বকে নিশানা করে তিনি বলেন, “এতদিন তো অনেক লুটপাট চলেছে, এবার সেই দিন শেষ। যারা ভেবেছিল মন্ত্রী হলে আমি নরম হয়ে যাব, তারা ভুল ভাবছে। মানুষের জন্য কাজ করতে এসেছি, আর যারা মানুষের টাকা আত্মসাৎ করেছে, তাদের হিসেবে এবার পাই পাই করে মেটানো হবে।” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করে তিনি বলেন, “রাজ্যে গণতন্ত্রকে উনি যে অবস্থায় পৌঁছে দিয়েছেন, তাতে মানুষই ওঁকে প্রত্যাখ্যান করেছে। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।”

একইভাবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও রেয়াত করেননি তিনি। অভিষেকের রাজনৈতিক কৌশলকে কটাক্ষ করে দিলীপ ঘোষ বলেন, “যাঁরা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে বসে রাজনীতি করেন, তাঁরা মানুষের পালস বোঝেন না। এই সরকার তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়বে।” মন্ত্রিত্ব পাওয়ার পর তাঁর পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, তাঁর প্রধান লক্ষ্য হবে রাজ্যের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা এবং গত কয়েক বছরে দুর্নীতির যে পাহাড় তৈরি হয়েছে তা ধূলিসাৎ করা।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মন্ত্রী হওয়ার পরও দিলীপ ঘোষের এই চেনা আক্রমণাত্মক ভঙ্গি বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, আগামী দিনে বিধানসভার ভেতরে ও বাইরে তৃণমূলের জন্য লড়াই আরও কঠিন হতে চলেছে। একদিকে যখন নতুন সরকারের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে ব্যস্ততা তুঙ্গে, তখন দিলীপ ঘোষের এই ‘মর্নিং ডাইজেস্ট’ বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের বারুদ উসকে দিয়েছে। প্রাতঃভ্রমণের আড্ডায় চা খেতে খেতেই তিনি আজ স্পষ্ট করে দিলেন যে, মন্ত্রিত্ব তাঁর দায়িত্ব বাড়ালেও প্রতিপক্ষকে আক্রমণের ঝাঁজ তিনি একচুলও কমাবেন না।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy