উত্তরপ্রদেশের বিজনোরের চাঁদপুর থানা এলাকায় এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় রাজনীতির আঙিনায় তীব্র শোরগোল পড়ে গেছে। বিজেপি জেলা মন্ত্রী প্রভাত যাদবের বিরুদ্ধে এক নারী চিকিৎসকের আনা ব্ল্যাকমেইলিং এবং নির্যাতনের অভিযোগ ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়েছে গোটা জেলা। ভুক্তভোগী চিকিৎসকের অভিযোগ, প্রভাত যাদব তাঁর খাবারে নেশাজাতীয় দ্রব্য মিশিয়ে তাঁকে অজ্ঞান করেন এবং সেই সুযোগে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন। পরবর্তীতে ওই নেতা সেই ছবি ও ভিডিও ইন্টারনেটে ভাইরাল করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে মোটা টাকা দাবি করেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে শারীরিক, মানসিক ও আর্থিক নির্যাতন চালান।
ঘটনার সূত্রপাত সম্পর্কে ওই নারী চিকিৎসক জানান, তাঁর স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকেই প্রভাত যাদব তাঁর পরিবারে ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। রৌনিয়া গ্রামের বাসিন্দা ওই বিজেপি নেতা নিজের স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন সময় রোগীর ছলে ওই চিকিৎসকের হাসপাতালে আসতেন। ধীরে ধীরে উভয় পরিবারের মধ্যে সখ্যতা গড়ে ওঠে এবং অভিযুক্ত নিয়মিত ওই চিকিৎসকের বাড়িতে যাতায়াত শুরু করেন। সেই পরিচয়ের সুযোগ নিয়েই প্রভাত যাদব এই জঘন্য ছক কষেন বলে অভিযোগ।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, একদিন অসাধু উদ্দেশ্যে প্রভাত যাদব তাঁর খাবার বা পানীয়ের সঙ্গে অত্যন্ত শক্তিশালী ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেন। অচেতন অবস্থায় ওই চিকিৎসকের অত্যন্ত ব্যক্তিগত ও আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও তোলেন অভিযুক্ত। এরপর শুরু হয় ব্ল্যাকমেইলের খেলা। ভিডিওগুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে অভিযুক্ত ওই চিকিৎসকের কাছ থেকে ক্রমাগত টাকা দাবি করতে থাকেন। শুধু তাই নয়, এর ফলে ওই চিকিৎসককে চরম শারীরিক ও মানসিক হেনস্তার শিকার হতে হয়।
নিরুপায় হয়ে ওই চিকিৎসক তাঁর পরিবারের সদস্যদের সমস্ত ঘটনাটি খুলে বলেন। এরপর তিনি চাঁদপুর থানায় বিজেপি নেতা প্রভাত যাদবের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি পুলিশ প্রশাসনের কাছে নিজের এবং নিজের সন্তানদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার আবেদন জানিয়েছেন, যাতে তিনি নির্ভয়ে তাঁর পেশাগত জীবন চালিয়ে যেতে পারেন।
অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বিজেপি নেতা প্রভাত যাদব একে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, তাঁকে ফাঁসানোর জন্যই এই ধরনের ভিত্তিহীন অভিযোগ আনা হয়েছে। ঘটনাটির গুরুত্ব বিবেচনা করে চাঁদপুর দেশের সিও দীপক সিং জানিয়েছেন, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়েছে এবং বর্তমানে ঘটনার তদন্ত চলছে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করতে পুলিশ খতিয়ে দেখছে সমস্ত প্রমাণ ও তথ্য। বিজনোর পুলিশের এই পদক্ষেপের ওপর এখন সকলের নজর। একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারের চিকিৎসকের অভিযোগ এবং তাতে প্রভাবশালী বিজেপি নেতার নাম জড়িয়ে পড়ায় এই মামলাটি এখন উত্তরপ্রদেশের রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রে।





