মালদা উত্তরের বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মুর ওপর প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় অবশেষে জামিন পেলেন ধৃত ১০ জন অভিযুক্ত। শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চ তাঁদের শর্তসাপেক্ষে জামিন মঞ্জুর করেছে। তবে জামিন পেলেও আদালতের নির্দেশে অভিযুক্তদের ওপর বেশ কিছু কড়া বিধি-নিষেধ বলবৎ থাকবে।
চার্জশিটে ১৯ জনের নাম: এদিন শুনানির সময় পুলিশ আদালতকে জানায় যে, এই মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া অনেকটাই এগিয়েছে। সাংসদ এবং শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষের ওপর হামলার ঘটনায় মোট ১৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ। গত কয়েক মাস ধরে এই ১০ জন জেল হেফাজতে ছিলেন। চার্জশিট পেশ হওয়ার পরেই তাঁদের জামিনের আবেদন গ্রাহ্য করে আদালত।
আদালতের দেওয়া কড়া শর্তাবলি: সার্কিট বেঞ্চের বিচারপতিরা জামিন দিলেও অভিযুক্তদের গতিবিধির ওপর স্পষ্ট সীমারেখা টেনে দিয়েছেন:
এলাকায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা: অভিযুক্তরা কোনোভাবেই ঘটনাস্থল অর্থাৎ নাগরাকাটার খড়িয়ার বন্দর এলাকায় প্রবেশ করতে পারবেন না।
তদন্তে সহযোগিতা: তদন্তের স্বার্থে এবং মামলার পরবর্তী শুনানির প্রয়োজনে পুলিশ বা আদালত তলব করলে তাঁদের অবশ্যই হাজিরা দিতে হবে।
সাক্ষী সুরক্ষা: মামলার কোনো সাক্ষী বা তথ্য-প্রমাণকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করলে তৎক্ষণাৎ জামিন বাতিল হতে পারে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট: ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে উত্তরবঙ্গের বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে গিয়ে নাগরাকাটার খড়িয়ার বন্দর এলাকায় ভয়াবহ আক্রমণের শিকার হন খগেন মুর্মু। উত্তেজিত ভিড় তাঁর কনভয় লক্ষ্য করে পাথর ছুড়লে সাংসদের মাথায় ও চোখের নিচে গুরুতর চোট লাগে। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছিল। বিজেপি এই হামলার নেপথ্যে তৃণমূলের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুললেও শাসক দল একে জনরোষ বলে দাবি করে আসছিল।
রাজনৈতিক চাপানউতোর: চার্জশিটে ১৯ জনের নাম থাকা এবং ১০ জনের জামিন পাওয়া নিয়ে নতুন করে সরগরম উত্তরবঙ্গের রাজনীতি। বিজেপির পক্ষ থেকে এই ১৯ জনকে উপযুক্ত সাজা দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে, অন্যদিকে অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবীরা এই জামিনকে তাদের নৈতিক জয় হিসেবেই দেখছেন।





