ক্লাসে শাসনের প্রতিশোধ! খোদ প্রধান শিক্ষকের সামনে শিক্ষককে বেল্ট দিয়ে বেধড়ক পেটালো অভিভাবক

উত্তর ২৪ পরগনার গোপালনগর থানার অন্তর্গত গোপালনগর হরিপদ ইনস্টিটিউশনে এক ন্যক্কারজনক ও অভূতপূর্ব ঘটনা ঘটে গিয়েছে, যা বর্তমানে সমগ্র রাজ্যজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য এবং সমালোচনার ঝড় তুলেছে। ক্লাসে সামান্য শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গিয়ে এক শিক্ষককে হেনস্থা ও মারধরের শিকার হতে হয়েছে, আর সেই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে আসতেই জনমানসে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষাঙ্গনের পবিত্রতা এবং শিক্ষকদের নিরাপত্তা আজ এক গভীর প্রশ্নের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি গোপালনগর হরিপদ ইনস্টিটিউশনে একাদশ শ্রেণির রেজিস্ট্রেশনের গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া চলছিল। এই প্রশাসনিক কাজের ব্যস্ততার মাঝেই ক্লাসরুমের ভেতরে বেশ কয়েকজন পড়ুয়া চরম বিশৃঙ্খলা ও হট্টগোল শুরু করে। পঠনপাঠনের পরিবেশ বজায় রাখতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করেন শিক্ষক অরুণ দাস। ছাত্রদের শান্ত করার উদ্দেশ্যে তিনি তাদের সামান্য বকাঝকা ও শাসন করেছিলেন। কিন্তু কে জানত যে এই পেশাগত দায়িত্ব পালনই এক ভয়ঙ্কর পরিণতির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে!
অভিযোগ রয়েছে, স্কুল ছুটির পর বাড়ি ফিরে ওই ছাত্র সম্পূর্ণ বিষয়টি তার পরিবারকে জানায়। এই সামান্য ঘটনাটিকে কেন্দ্র করেই চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই এক ক্ষিপ্ত অভিভাবক রুদ্রমূর্তি ধারণ করে সোজা স্কুলে চড়াও হন। ভাইরাল হওয়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, অভিযুক্ত অভিভাবক দেবব্রত দাস স্কুলে প্রবেশ করেই সোজা প্রধান শিক্ষক সমরেশচন্দ্র মণ্ডলের অফিস ঘরে ঢুকে পড়েন। সেখানে শিক্ষক অরুণ দাসের সঙ্গে তার তীব্র বাদানুবাদ শুরু হয়। বচসা চলাকালীন হঠাৎই নিজের কোমর থেকে বেল্ট খুলে শিক্ষককে বেধড়ক মারধর শুরু করেন ওই অভিযুক্ত।
সহকর্মীকে বাঁচাতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রধান শিক্ষক সমরেশচন্দ্র মণ্ডল নিজে এগিয়ে আসেন। কিন্তু উন্মত্ত ও ক্ষিপ্ত ওই অভিভাবক প্রধান শিক্ষককেও একটুও রেয়াত করেননি। তাকেও প্রকাশ্যেই মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। এই আকস্মিক ও হিংসাত্মক আক্রমণে গোটা স্কুল চত্বরে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণভয়ে চিৎকার শুরু করেন পড়ুয়ারা। এরপর স্কুলের অন্যান্য শিক্ষক এবং অশিক্ষিত কর্মীরা দ্রুত ছুটে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন এবং তৎক্ষণাৎ গোপালনগর থানায় খবর পাঠানো হয়। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এই মর্মান্তিক ঘটনার পর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সমরেশ মণ্ডল গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, বিদ্যালয়ে ন্যূনতম শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য শিক্ষকদের অনেক সময় ছাত্রদের একটু-আধটু শাসন করতেই হয়। কিন্তু এর জন্য যদি কোনো অভিভাবক এভাবে স্কুল চত্বরে ঢুকে অস্ত্র বা বেল্ট নিয়ে শিক্ষকদের ওপর চড়াও হন, তবে আগামী দিনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পঠনপাঠন চালানো সম্পূর্ণ অসম্ভব হয়ে পড়বে। শিক্ষকরা বর্তমানে চরম আতঙ্ক এবং নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। রাজ্যজুড়ে শিক্ষাবিদ ও সাধারণ মানুষ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীর কঠোরতম শাস্তির দাবি তুলেছেন।