ভোর ৫টার ভয়াবহতা! কন্টেনার ট্রাকে বাসের সজোরে ধাক্কা, রক্তাক্ত রাজপথে মুহূর্তেই কেড়ে নিল ৬ প্রাণ

সবেমাত্র পূর্বাকাশে সকালের আলো ফুটতে শুরু করেছে। ঘড়ির কাঁটায় তখন ঠিক ভোর পাঁচটা বাজতে চলেছে। তেলঙ্গানার সূর্যপেট জেলার অন্তর্গত কোদাদ মণ্ডলের ডোরাকুন্তা এলাকায় হঠাৎই এক বিকট শব্দে চারপাশ কেঁপে ওঠে। বুধবার ভোরে ঘটে যাওয়া এই ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনার বিকট আওয়াজ শুনেই মুহূর্তের মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘরের বাইরে বেরিয়ে আসেন। ঘটনাস্থলে এসে তারা দেখতে পান, রাস্তার ওপরে রক্তাক্ত অবস্থায় ছটফট করছেন একাধিক বাসযাত্রী। কেউ বা আবার দুমড়ানো-মোচড়ানো বাসের লোহার কাঠামোর মাঝে আটকে পড়ে তীব্র আর্তনাদ করছেন। মুহূর্তের মধ্যে সমগ্র এলাকায় চরম আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের মাধ্যমেই খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ ও দমকল বাহিনী।
স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গিয়েছে, যাত্রীবাহী ওই বেসরকারি বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সজোরে একটি কন্টেনার ট্রাকের পিছনে ধাক্কা মারে। ঘটনার আকস্মিকতা এতটাই বেশি ছিল যে বাসটির সামনের অংশ সম্পূর্ণ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বাসটি প্রতিদিনের মতো হায়দরাবাদ থেকে ছেড়ে অন্ধ্রপ্রদেশের এলুরুর দিকে যাচ্ছিল। সূর্যপেট জেলার কোদাদ এলাকায় পৌঁছতেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার সময় বাসটিতে মোট ৪২ জন যাত্রী সওয়ার ছিলেন। আহত যাত্রীদের প্রাথমিক বিবরণ অনুযায়ী, ভোর সাড়ে চারটে থেকে পাঁচটার মধ্যে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। বিকট শব্দ শুনে স্থানীয় মানুষরাই প্রথমে ছুটে এসে উদ্ধারকাজে হাত লাগান এবং পুলিশকে খবর দেন।
এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট ৬ জন যাত্রীর মৃত্যুর মর্মান্তিক খবর পাওয়া গিয়েছে। পাশাপাশি, গুরুতর জখম হয়েছেন আরও অন্তত ২০ জন যাত্রী। যাঁদের মধ্যে ১০ থেকে ১২ জনের অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ ও দমকল কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে অবিলম্বে নিকটবর্তী হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করেন। উদ্ধার অভিযান এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি ব্যক্তিগতভাবে তদারকি করতে সূর্যপেটের পুলিশ সুপার (এসপি) নরসিংহ নিজেই দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
ঘটনাস্থলের রোমহর্ষক বর্ণনা দিয়ে এসপি নরসিংহ গণমাধ্যমকে জানান, “ভোর ৫টার দিকে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। আমরা খবর পাওয়ার মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যেই পুলিশ ও হাইওয়ে পেট্রোল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করি। ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ ও করুণ। বাসের ভেতরে যাত্রীরা আটকে ছিলেন এবং চারপাশ রক্তাক্ত ছিল। এখনও পর্যন্ত ৬ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে, যেখানে চিকিৎসকরা তাঁদের মৃত বলে ঘোষণা করেন। মৃতদেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।”
প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ আধিকারিক আরও জানান যে, বাসটির বেপরোয়া ও অতিরিক্ত গতিই এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার মূল কারণ বলে অনুমান করা হচ্ছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে এবং দুর্ঘটনার আসল কারণ উদঘাটনে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত যাত্রীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। নিহতদের মধ্যে ইতিমধ্যে তিনজনের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে—ওয়াই চিন্নি (৩২), বি মেরি জোশনা (২৯) এবং চেন্নাকেশাভুলু নগেন্দ্রবাবু (২১)। বাকি মৃতদের পরিচয় শনাক্তকরণের প্রক্রিয়াও দ্রুত চলছে।