ক্রিপ্টোতেই বাজিমাত! ১ বছরে ১১ হাজার কোটির মালিক ডোনাল্ড ট্রাম্প, ফাঁস সম্পদের পাহাড়

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০২৫ সালের বার্ষিক আর্থিক বিবরণী প্রকাশ্যে আসতেই বিশ্বজুড়ে শোরগোল পড়ে গেছে। এই রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, গত এক বছরে ট্রাম্পের আয়ের প্রধান উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে ক্রিপ্টোকারেন্সি। সরকারি নথিপত্র অনুযায়ী, ২০২৫ সালে তিনি এবং তাঁর পরিবার ক্রিপ্টো ভেঞ্চার থেকে ১.৪ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ১১,৫০০ কোটি টাকা) উপার্জন করেছেন। এটি তাঁর পারিবারিক আয়ের সবথেকে বড় অংশ।
আর্থিক নথি বলছে, ট্রাম্পের ছেলে এবং সহযোগীদের সাথে যৌথভাবে গড়ে তোলা ‘ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফিনান্সিয়াল’ (World Liberty Financial) প্রকল্প থেকে তিনি ৫০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি আয় করেছেন। এছাড়া ‘$TRUMP’ নামক মিম কয়েন থেকে তাঁর আয় হয়েছে প্রায় ৬৩৫ মিলিয়ন ডলার। গত বছরের তুলনায় তাঁর এই ক্রিপ্টো আয় প্রায় নয় গুণ বেড়েছে, যা স্পষ্টভাবে ডিজিটাল সম্পদের প্রতি তাঁর ক্রমবর্ধমান আগ্রহের ইঙ্গিত দেয়।
ক্রিপ্টোর পাশাপাশি ট্রাম্পের চিরাচরিত রিয়েল এস্টেট ব্যবসাও বেশ ভালো মুনাফা করেছে। ভারত, ভিয়েতনাম, কাতার, ওমান এবং দুবাইয়ের মতো দেশগুলিতে লাইসেন্সিং চুক্তির মাধ্যমে তিনি প্রায় ৫২ মিলিয়ন ডলার উপার্জন করেছেন। ভারতের বাজারে ট্রাম্প ব্র্যান্ডের প্রকল্পগুলো বর্তমানে বেশ সক্রিয়। দিল্লির মতো মেট্রো শহরগুলোতে ট্রাম্প টাওয়ারের লাইসেন্সিং ফি থেকে তাঁর কয়েক মিলিয়ন ডলার আয় হয়েছে। এছাড়া ভিয়েতনামে রিয়েল এস্টেট প্রকল্প থেকেও তিনি বড় অংকের মুনাফা ঘরে তুলেছেন।
দুবাইয়ে ৮টি আবাসন প্রকল্পের সাথে যুক্ত ট্রাম্পের রিয়েল এস্টেট ব্যবসা বিশ্বের ২০টি দেশে ছড়িয়ে রয়েছে। শুধু তাই নয়, গত বছর মিডিয়া হাউসের সাথে আইনি নিষ্পত্তির মাধ্যমে তিনি ৮০ মিলিয়ন ডলার এবং গলফ কোর্স ও রিসর্ট ব্যবসা থেকে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করেছেন বলে জানা গেছে। ফোরবস ম্যাগাজিনের মতে, ট্রাম্পের মোট সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ৬.৫ বিলিয়ন ডলার, যদিও পারিবারিক আয় ও ব্যবসায়িক বিনিয়োগের সঠিক পরিমাণ সবসময় বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে।
তবে ট্রাম্পের এই বিপুল আয়কে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কও দানা বেঁধেছে। সমালোচকদের মতে, প্রেসিডেন্ট পদে থাকাকালীন তাঁর নেওয়া বিভিন্ন ক্রিপ্টো-বান্ধব নীতি সরাসরি তাঁর নিজস্ব ব্যবসায়িক লাভ বাড়িয়ে দিয়েছে, যা স্বার্থের সংঘাতের (Conflict of Interest) সৃষ্টি করতে পারে। হোয়াইট হাউসের অবশ্য দাবি, প্রেসিডেন্ট বা তাঁর পরিবারের কোনো স্বার্থের সংঘাত নেই এবং আমেরিকার অর্থনীতিকে বিশ্বের ‘ক্রিপ্টো রাজধানী’ হিসেবে গড়ে তোলাই তাঁর মূল লক্ষ্য।