ক্রস ভোটিংয়ের ভয়ে বিধায়কদের ওপর কড়া নজর! অখিলেশের মাস্টারস্ট্রোকের সামনে বড় পরীক্ষার মুখে যোগী

উত্তরপ্রদেশে রাজ্যসভার ১০টি আসনে আগামী ১৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে চলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে একটি আসন নিয়ে শাসক দল বিজেপির অন্দরে প্রবল দুশ্চিন্তা ও অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে, দলের বিধায়কদের এখন থেকেই কড়া নজরদারিতে রাখা শুরু করেছে পদ্ম শিবির। পাশাপাশি, জোট শরিকদেরও ক্রস ভোটিংয়ের সম্ভাবনা নিয়ে কঠোরভাবে সতর্ক করেছে রাজ্য নেতৃত্ব।
১০টি আসনের মধ্যে ৭টিতে বিজেপির জয় নিশ্চিত এবং প্রধান বিরোধী দল সমাজবাদী পার্টিও (এসপি) দুটি আসনে অনায়াসে জিতে যাবে। কিন্তু মূল লড়াই ও টেনশন তৈরি হয়েছে দশম আসনটি নিয়ে। বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচন বিজেপি ও এসপি-র কাছে প্রেস্টিজ ফাইটে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে উত্তরপ্রদেশে মোট বিধায়ক সংখ্যা ৩৯৬। রাজ্যসভায় এক একটি আসনে জয় পেতে প্রথম পছন্দের ৩৭টি ভোটের প্রয়োজন। এসপির ১০১ জন বিধায়ক ও কংগ্রেসের ২ জনসহ মোট ১০৩ জন ভোট রয়েছে। অন্যদিকে, এনডিএ শিবিরে বিজেপির ২৫৫, শরিক দলগুলির ৩৩ এবং অন্যান্য সমর্থক মিলিয়ে মোট ২৯৪ জন বিধায়ক রয়েছেন। বিজেপির ৮ জন প্রার্থীর জয়ের জন্য ২৯৬টি ভোট দরকার। অর্থাৎ, দশম আসনটি জিততে তাদের মাত্র দুটি ভোটের ঘাটতি রয়েছে, যা ক্রস-ভোটিং ছাড়া পূরণ করা অসম্ভব।
অন্যদিকে, অখিলেশ যাদব কাকা রাম গোপাল যাদবের পাশাপাশি রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের নির্বাহী পরিচালক ধনরাজ নাথওয়ানিকে প্রার্থী করে সবাইকে চমকে দিয়েছেন। অখিলেশের দাবি, এনডিএ শিবিরের অনেকেই তাঁদের দিকে ফিরে আসতে চান। এর ফলে সমাজবাদী পার্টি যদি এনডিএ শিবিরে ভাঙন ধরাতে সফল হয়, তবে সহজেই এই দশম আসনটি ছিনিয়ে নিতে পারে। অতীতে ২০২৪ সালের রাজ্যসভা নির্বাচনে এসপির ৩ জন বিধায়ক ক্রস-ভোট দেওয়ায় বিজেপি বাড়তি সুবিধা পেয়েছিল। এবার সেই একই আশঙ্কায় কাঁপছে পদ্ম শিবির। শেষ পর্যন্ত যোগীর রণকৌশল সফল হবে, নাকি অখিলেশের চমক কাজ করবে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা দেশ।