ফ্রিজ-ওয়াশিং মেশিন নেই, অথচ ভাড়া ৭০ হাজার! বেঙ্গালুরুর আকাশছোঁয়া বাড়িভাড়া দেখে মাথায় হাত নেটনাগরিকদের

বেঙ্গালুরুর আকাশছোঁয়া বাড়িভাড়া এবং আইটি রাজধানী আবাসন বাজারের লাগামছাড়া লুণ্ঠন নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ফের একবার তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। সম্প্রতি এক রেডিট ব্যবহারকারী তাঁর এক মর্মান্তিক ও তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করে জানিয়েছেন, অফিসের কাছাকাছি একটি ২বিএইচকে ফ্ল্যাট দেখতে গিয়ে তাঁকে কীভাবে চরম হতাশা নিয়ে খালি হাতে ফিরে আসতে হয়েছিল। ওই ফ্ল্যাটের মালিক রক্ষণাবেক্ষণ খরচসহ প্রতি মাসে ৭০,০০০ টাকা ভাড়া এবং অগ্রিম হিসেবে ৩ থেকে ৪ লক্ষ টাকার বিশাল সিকিউরিটি ডিপোজিট দাবি করেন। শুধু তাই নয়, প্রতি বছর নিয়মিত ৭ থেকে ৮ শতাংশ হারে ভাড়া বাড়ানোর শর্তও জুড়ে দেওয়া হয়।
পোস্টে ওই হতাশ ভাড়্টিয়া আরও উল্লেখ করেছেন যে, ফ্ল্যাটটির লোকালয় বা অবস্থান বেশ ভালো হলেও ভেতরের অবস্থা ছিল অত্যন্ত শোচনীয়। ঘরগুলো এতটাই ছোট এবং সংকীর্ণ ছিল যে সেখানে একটি স্ট্যান্ডার্ড কুইন-সাইজ বিছানা এবং কাজের একটি ছোট টেবিল পর্যন্ত রাখা অসম্ভব ছিল। কাগজে-কলমে ফ্ল্যাটটিকে ‘সম্পূর্ণ আসবাবপত্রসজ্জিত’ বা ফুল ফার্নিশড বলা হলেও বাস্তবে সেখানে মাত্র একটি বিছানা, দুটি সোফা এবং একটি অতি ক্ষুদ্র টিভি ছাড়া আর কিছুই ছিল না। ঘরে কোনো রেফ্রিজারেটর, ওয়াশিং মেশিন কিংবা ডাইনিং টেবিলের মতো মৌলিক আসবাবপত্র বা সুযোগ-সুবিধাও ছিল না। বর্তমানের উন্নত পিজি বা পেয়িং গেস্ট হাউসের পরিবেশও এর চেয়ে অনেক ভালো বলে দাবি করেছেন ওই ব্যবহারকারী।
বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করে ভাড়াটিয়া মালিককে ৬৫,০০০ টাকা মাসিক ভাড়া এবং তিন মাসের অগ্রিম দেওয়ার প্রস্তাব জানালেও বাড়িওয়ালা সেই প্রস্তাব সরাসরি খারিজ করে দেন। এরপর আর এক মুহূর্তও নষ্ট না করে কোনো রকম পিছুটান বা আফসোস ছাড়াই ওই ফ্ল্যাট নেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন ওই যুবক। এই পোস্টটি প্রকাশ্যে আসার সঙ্গে সঙ্গেই ইন্টারনেট দুনিয়ায় দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে এবং হাজার হাজার মানুষ বেঙ্গালুরুর রিয়েল এস্টেট বাজারের এই লাগামছাড়া নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েন। অনেকেই মন্তব্য করেছেন যে, বর্তমানে আইটি সেক্টরের চাকরি আগের মতো নিরাপদ বা স্থায়ী নয় এবং করপোরেট বেতনও আগের মতো আকাশচুম্বী নয়, তবুও কিছু মানুষ না ভেবেই অতিরিক্ত ভাড়া মেনে নিচ্ছেন।
একজন নেটিজেন তো বলেই ফেললেন, “ফ্রান্সের সুন্দর অ্যাপার্টমেন্টগুলোও এর চেয়ে অনেক সস্তা, অথচ সেখানকার কর্মীরা মাসে দেড় লক্ষ টাকার বেশি উপার্জন করেন।” বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, বাইরে থেকে আসা কর্মীরা কোনো রকম দরকষাকষি ছাড়াই মালিকদের অতিরিক্ত চাহিদা মেনে নেওয়ায় ভাড়ার বাজার সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। পোস্টের শেষ অংশে ওই ভাড়াটিয়া অন্য চাকরিজীবীদের উদ্দেশে পরামর্শ দিয়েছেন যে, অন্ধের মতো বেশি ভাড়া মেনে না নিয়ে যেন সবসময় কঠোর দরকষাকষি করা হয় এবং ফ্ল্যাটের প্রকৃত বা যুক্তিসঙ্গত মূল্য যাচাই করে তবেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।