‘ওরা জানে কী করেছে!’ ফ্লাইদুবাই হামলার পিছনে ইরানের যোগ রয়েছে কি না, সাফ জানিয়ে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট

ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানের ককপিটে ওমানি কো-পাইলটের চাঞ্চল্যকর হামলার ঘটনায় এবার সরাসরি ইরানের যোগসূত্র খতিয়ে দেখছে আন্তর্জাতিক তদন্তকারী দল। আর যদি এই ষড়যন্ত্রে তেহরানের কোনো যোগ প্রমাণিত হয়, তবে ইরানকে ‘খুব কঠিন আঘাত’ করা হবে বলে চরম হুঁশিয়ারি দিলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউস থেকে টেক্সাস রওনা হওয়ার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট ভাষায় জানান, তিনি যা তথ্য পাচ্ছেন, তাতে এর নেপথ্যে ইরানের হাত থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না, যদিও বিষয়টি বর্তমানে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তদন্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি থেকে ১৮২ জন যাত্রী নিয়ে তেলআভিভগামী ফ্লাইদুবাইয়ের ওই বিমানটি মাঝ আকাশে ভয়াবহ সংকটের মুখে পড়েছিল। উড়ানের প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর ককপিটের ভেতরে হঠাৎই হিংসাত্মক আক্রমণ চালান ওমানের নাগরিক ও ওই বিমানের সহ-পাইলট। তিনি ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের ওপর চড়াও হন, যার ফলে বিমানটি প্রায় ৩৩ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে মাত্র এক মিনিটের মধ্যে ১৭ হাজার ফুটে নেমে আসে। Flightradar24-এর তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরব ও জর্ডন সীমান্তের কাছে বিমানটি অস্বাভাবিকভাবে চক্কর কাটতে শুরু করে এবং ককপিট থেকে ‘৭৫০০’ অর্থাৎ বেআইনি হস্তক্ষেপ বা ছিনতাইয়ের জরুরি সংকেত পাঠানো হয়। চরম সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে আহত ক্যাপ্টেন স্মিত নিজেই ককপিটের দরজা খুলে দিলে, যাত্রীরা ঝাঁপিয়ে পড়ে হামলাকারীকে কাবু করেন। পরবর্তীতে প্রশিক্ষণরত পাইলটদের সহযোগিতায় বিমানটি সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে।

এই ঘটনায় ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) সহ-পাইলটকে প্রভাবিত করেছিল কি না, তা নিয়ে একাধিক দেশের গোয়েন্দারা যৌথভাবে তদন্ত চালাচ্ছেন। এদিকে ট্রাম্পের এই কড়া হুঁশিয়ারির পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধংদেহী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। একদিকে যখন মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি জোরদার করা হচ্ছে এবং প্রায় ৯ হাজার সেনা ও যুদ্ধজাহাজের বহর পাঠানো হয়েছে, ঠিক তখনই ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপোড়েন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। সবমিলিয়ে, ফ্লাইদুবাইয়ের রোমহর্ষক এই ঘটনার নেপথ্যে প্রকৃত সত্য কী রয়েছে, তা জানতে এখন বিশ্বের সমস্ত প্রভাবশালী দেশের নজর সেই গোপনীয় তদন্তের রিপোর্টের দিকেই।