“কোমরে দড়ি বেঁধে ঘোরানো হোক!” প্রাক্তন বিধায়কের গ্রেফতারিতে ফুঁসে উঠলেন আক্রান্ত বিজেপি নেতারা

নৈহাটির রাজনীতিতে এক বড়সড় রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটে গেল। তোলাবাজি এবং বিজেপি কর্মীদের উপর নির্মমভাবে মারধর চালানোর সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন বিধায়ক সনৎ দে-কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার সকালে দত্তপুকুর এলাকা থেকে তাঁকে পাকড়াও করা হয়। এদিনই তাঁকে ব্যারাকপুর মহকুমা আদালতে পেশ করার কথা রয়েছে। এদিকে, সনৎ দে গ্রেফতার হওয়ার খবর চাউর হতেই নৈহাটি থানার সামনে তীব্র বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন স্থানীয় বিজেপি কর্মী ও সমর্থকরা।
পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের রাজনীতিতে সনৎ দে অত্যন্ত প্রভাবশালী এবং পরিচিত নাম। দলীয় সমীকরণে তিনি রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ ভৌমিকের অনুগামী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। একসময় নৈহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান পারিষদ হিসেবেও দায়িত্ব সামলেছেন। ২০২৪ সালে পার্থ ভৌমিক ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিলে, সেই শূন্য আসনে উপনির্বাচনে তৃণমূলের টিকিটে বিধায়ক নির্বাচিত হন সনৎ দে। তবে বিজেপির কড়া অভিযোগ, বিধায়ক হওয়ার পর থেকেই তাঁর ক্ষমতার অপব্যবহার করে এলাকায় লাগাতার তোলাবাজি ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেছেন। গত বিধানসভা নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন, যার পরই তাঁর বিরুদ্ধে নৈহাটি থানায় তোলাবাজি ও সহিংসতার একাধিক অভিযোগ দায়ের হয়।
পুলিশের খাতায় নাম ওঠার পর থেকেই এতদিন গা-ঢাকা দিয়েছিলেন সনৎ বাবু। এমনকি দিন কয়েক আগে তাঁর বাড়িতে পুলিশ তল্লাশি চালাতে গেলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। অবশেষে শনিবার সকালে দত্তপুকুর থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়। তাঁর গ্রেফতারির খবর প্রকাশ্যে আসতেই নোয়াপাড়ার বিধায়ক তথা রাজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা অর্জয়ন সিং সন্তোষ প্রকাশ করে জানান, সনৎ দে মূলত একজন তোলাবাজ হিসেবেই পরিচিত এবং তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশ সঠিক তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নিক। অন্যদিকে, বিজেপি নেতা দেবার্ঘ্য ঘোষ ও মহিলা মোর্চা নেত্রী জিনিয়া চক্রবর্তী চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করে বলেন, বিরোধী দলের কর্মী-সমর্থকদের উপর সীমাহীন অত্যাচার চালিয়েছিলেন তিনি। মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো থেকে শুরু করে বহু বিজেপি কর্মীর বাড়িতে ভাঙচুর চালানোর মতো গুরুতর অভিযোগ এনে তাঁরা আসামীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন।