দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ভারত যে কোনো আপস করে না, তা আরও একবার স্পষ্ট করে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। লোকসভায় বিরোধীদের সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে মঙ্গলবার তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দিলেন, ‘অপারেশন সিঁদুর’ পৃথিবীর কোনো নেতার কথায় বন্ধ হয়নি। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির আবেদনকেও উড়িয়ে দিয়ে মোদী সরকারের দৃঢ় পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন তিনি।
বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী অপারেশন সিঁদুর নিয়ে বিস্তৃত ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, “পৃথিবীর কোনো নেতাই আমাকে অপারেশন সিঁদুর বন্ধ করতে বলেননি।” প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসে সেই ঐতিহাসিক সামরিক অভিযানের পেছনের কিছু অজানা তথ্য।
মোদী জানান, আমেরিকার তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট তাকে ফোনে সতর্ক করে বলেছিলেন যে পাকিস্তান বড় ধরনের আক্রমণ চালানোর পরিকল্পনা করছে। এই হুমকির জবাবে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া ছিল অত্যন্ত স্পষ্ট ও কড়া। তিনি বলেন, “যদি এটাই পাকিস্তানের উদ্দেশ্য হয়, তাহলে তাদের চরম মূল্য দিতে হবে। আমরা আক্রমণের জবাব দেব। আমি আরও বলি, গুলিবর্ষণের জবাব শেল দিয়ে দেব।”
প্রধানমন্ত্রী ৯ মে রাতের এবং ১০ মে সকালের ঘটনার উল্লেখ করেন, যখন পাকিস্তানের সামরিক শক্তিকে কার্যত গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, “৯ মে মধ্যরাত থেকে ১০ মে সকালের মধ্যে যে ক্ষেপণাস্ত্রগুলি পাকিস্তানের ওপর আঘাত হানে, তাতে পাকিস্তানের অবস্থা শোচনীয় হয়ে যায়। এটাই ছিল তাদের উত্তর এবং এটাই ছিল চেতনা।”
পাকিস্তানের আকুতি এবং ভারতের দৃঢ়তা
অপারেশন সিঁদুরের প্রাক্কালে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ডিজিএমও (ডিরেক্টর জেনারেল মিলিটারি অপারেশনস) ভারতের কাছে যুদ্ধবিরতির জন্য অনুরোধ করেছিল বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “যখন পাকিস্তানকে প্রত্যাঘাত করা হয়, তখন পাকিস্তান ডিজিএমওকে ফোন করে অনুরোধ করেছিল যে যথেষ্ট হয়েছে। আমাদের আর আক্রমণ সহ্য করার শক্তি নেই। দয়া করে আক্রমণ বন্ধ করুন।” ভারতের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, “আমরা আমাদের লক্ষ্য অর্জন করেছি। এখন যদি তোমরা কিছু করো, তাহলে চরম মূল্য দিতে হবে।”
বিরোধীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কটাক্ষ
অপারেশন সিঁদুরের পর দেশের ভেতর থেকে ওঠা কিছু সংশয়কেও এদিন আক্রমণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ১০ মে ভারত অপারেশন সিঁদুরের অধীনে গৃহীত পদক্ষেপ বন্ধ করার ঘোষণা করেছে। কিন্তু সেই সময় সীমান্তের ওপার থেকে একই ধরনের মিথ্যা প্রচার চালানো হচ্ছিল এবং দেশের মধ্যেও কিছু লোক সেনাবাহিনীর দেওয়া তথ্যের পরিবর্তে পাকিস্তানের মিথ্যা প্রচারে মাথা ঘামাতে ব্যস্ত ছিল। মোদী কংগ্রেসকে কটাক্ষ করে বলেন, “যেখানে ভারতের অবস্থান সবসময় স্পষ্ট, সেখানে কেউ তথ্যের পরিবর্তে প্রমাণ খুঁজে বের করার চেষ্টা করছিল।”
প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যে অপারেশন সিঁদুর নিয়ে ওঠা সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটল এবং দেশের সামরিক সক্ষমতা ও সরকারের দৃঢ় সংকল্প আরও একবার সবার সামনে এল।