কোটি কোটি শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি? NEET জট কাটাতে আসরে সুপ্রিম কোর্ট, কেন্দ্রকে কড়া বার্তা

NEET-UG ২০২৬ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মকে কেন্দ্র করে যে বিতর্ক দানা বেঁধেছে, তা নিয়ে এবার চূড়ান্ত ক্ষোভ উগরে দিল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। দেশের কোটি কোটি মেধাবী ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ নিয়ে যেভাবে বারবার খেলা চলছে, তাতে জাতীয় পরীক্ষা সংস্থা (NTA)-র ভূমিকা নিয়ে শীর্ষ আদালত গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আদালতের স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ, অতীতের একাধিক বিতর্কিত ঘটনা থেকে NTA শিক্ষা নিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। এই ধরনের গাফিলতি কেবল দুঃখজনকই নয়, বরং দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য চরম উদ্বেগজনক।

সোমবার মামলার শুনানি চলাকালীন সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রীয় সরকার, শিক্ষা মন্ত্রক এবং এনটিএ (NTA)-কে নোটিস জারি করেছে। আদালতের নির্দেশ, বিগত সময়ে NEET পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে যতগুলি তদন্ত রিপোর্ট, অভিযোগ এবং অভ্যন্তরীণ নথি জমা পড়েছে, তার সমস্ত তথ্য বিস্তারিতভাবে পেশ করতে হবে। শুধু তাই নয়, ভবিষ্যতে এই ধরণের অনিয়ম ঠেকাতে সরকার ঠিক কী কী সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, তার একটি স্বচ্ছ খসড়াও আদালতে জমা দিতে বলা হয়েছে।

প্রশ্নফাঁসের এই ঘটনা ফের একবার দেশের চিকিৎসা শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে বিশাল বড় প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়েছে। বারবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি করা সত্ত্বেও, বাস্তবে অসাধু চক্রের দ্বারা প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে NTA কেন পুরোপুরি ব্যর্থ হচ্ছে, তা নিয়ে আদালত এদিন তীব্র সমালোচনা করেছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু সুসংগঠিত চক্র পরীক্ষার আগে থেকেই প্রশ্নপত্র লিক করে মেধাবী পরীক্ষার্থীদের সুযোগ নষ্ট করছে।

এই পরিস্থিতি বিবেচনা করে ফেডারেশন অফ অল ইন্ডিয়া মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (FAIMA) শীর্ষ আদালতে একটি গুরুত্বপূর্ণ আবেদন জানিয়েছে। তাদের মতে, শুধুমাত্র তদন্ত করলেই পরিস্থিতির বদল হবে না; গোটা পরীক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন। FAIMA-র পক্ষ থেকে দাবি তোলা হয়েছে যে, NEET পরিচালনার ভার NTA-র কাছ থেকে সরিয়ে সম্পূর্ণ প্রযুক্তি-নির্ভর ও স্বশাসিত কোনো সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হোক। তাদের মতে, স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য এখন একমাত্র পথ হলো পরীক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো।

আবেদনে আরও স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে NEET-UG পরীক্ষাকে শুধুমাত্র কম্পিউটার ভিত্তিক পরীক্ষা (CBT) বা অনলাইন মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে। এতে প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার ঝুঁকি প্রায় শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব। এছাড়াও, প্রতিটি ধাপ কঠোরভাবে নজরদারি করার জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠনের দাবিও তোলা হয়েছে। আদালতের এই নজিরবিহীন কড়া অবস্থানের ফলে এখন আশা করা যাচ্ছে যে, পরীক্ষা প্রক্রিয়ায় আমূল সংস্কার আসবে এবং লক্ষ লক্ষ পড়ুয়ার পরিশ্রম ও ভবিষ্যতের মর্যাদা রক্ষা পাবে। পুরো দেশের নজর এখন পরবর্তী শুনানির দিকে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy