কোটি কোটি নারীর ক্ষমতায়ন থেকে রেকর্ড ব্যাঙ্কিং অ্যাকাউন্ট! মোদীর ফ্ল্যাগশিপ স্কিমে বদলে গেল ভারতের গ্রামীণ অর্থনীতি

ভারতের আর্থিক অন্তর্ভুক্তির জাতীয় মিশন হিসেবে ২০১৪ সালে চালু হওয়া প্রধানমন্ত্রী জনধন যোজনা (PMJDY) সফলভাবে তার ঐতিহাসিক ১২ বছর পূর্ণ করেছে। দেশের আর্থিক ব্যবস্থার মূলস্রোতের বাইরে থাকা এবং পর্যাপ্ত ব্যাঙ্কিং পরিষেবা না পাওয়া কোটি কোটি মানুষকে আনুষ্ঠানিক আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার ক্ষেত্রে এই প্রকল্পটি আজ দেশের অর্থনীতিতে এক অবিসংবাদিত স্তম্ভ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৫ সালে যেখানে পিএমজেডিওয়াই (PMJDY) অ্যাকাউন্টের মোট সংখ্যা ছিল মাত্র ১৪.৭২ কোটি, সেখানে ২০২৬ সালের ১৯ আগস্টের মধ্যে সেই সংখ্যা অবিশ্বাস্যভাবে প্রায় চারগুণ বৃদ্ধি পেয়ে ৫৯.০৯ কোটিতে পৌঁছেছে। এই বিপুল সংখ্যক অ্যাকাউন্টের মধ্যে প্রায় ৪৫.৯৫ কোটি অ্যাকাউন্ট রয়েছে দেশের গ্রামীণ ও আধা-শহরাঞ্চলে, এবং ১৩.১৪ কোটি অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে শহর ও মেট্রোপলিটন এলাকায়। এর থেকেই স্পষ্ট যে দেশের প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় ব্যাঙ্কিং পরিষেবা পৌঁছে দিতে এই প্রকল্প কতটা সফল হয়েছে।
মহিলাদের আর্থিক ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রেও এই প্রকল্প এক যুগান্তকারী মাইলফলক ছুঁয়েছে। ২০২৬ সালের ১৯ আগস্ট পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, জনধন প্রকল্পের মোট সুবিধাভোগীদের মধ্যে ৩২.৯২ কোটিই হলেন মহিলা। আনুষ্ঠানিক ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থায় নারী শক্তির এই অভূতপূর্ব অংশগ্রহণ দেশের আর্থ-সামাজিক চিত্কেও বড় পরিবর্তন এনেছে। পাশাপাশি, এই অ্যাকাউন্টগুলিতে জমার পরিমাণও বৃদ্ধি পেয়েছে বহুগুণ। ২০১৫ সালের মার্চে এই অ্যাকাউন্টগুলিতে মোট আমানতের পরিমাণ ছিল ১৫,৬৭০ কোটি টাকা, যা ২০২৬ সালের ১৯ আগস্ট পর্যন্ত লাফিয়ে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩,১৬,৫১৪ কোটি টাকায়—অর্থাৎ প্রায় ২০ গুণ বৃদ্ধি! সরকারের মতে, নিম্ন আয়ের পরিবারগুলির মধ্যে সঞ্চয়ের মানসিকতা বৃদ্ধি এবং আর্থিক ব্যবস্থার প্রতি মানুষের গভীর আস্থারই প্রতিফলন এই বিশাল অংক।
ডিজিটাল ব্যাঙ্কিং ও সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের প্রসারেও জনধন যোজনা মুশকিল আসান হয়ে উঠেছে। ২০২৬ সালের ১৯ আগস্ট পর্যন্ত অ্যাকাউন্টধারীদের মধ্যে মোট ৪১.২৯ কোটি রূপের ডেবিট কার্ড (RuPay Debit Card) ইস্যু করা হয়েছে। ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (DBT), প্রধানমন্ত্রী জীবন জ্যোতি বিমা যোজনা, প্রধানমন্ত্রী সুরক্ষা বিমা যোজনা, অটল পেনশন যোজনা এবং মু্দ্রা (MUDRA) প্রকল্পের মতো জনকল্যাণমূলক উদ্যোগগুলি এখন এই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমেই সরাসরি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। বিগত বারো বছরে কেবল অ্যাকাউন্ট খোলার গণ্ডিতে আটকে না থেকে, এই প্রকল্প ভারতের কোটি কোটি মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে এবং তাঁদের আর্থিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে এক অনন্য ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছে।