রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে কোচবিহারের মাটিতে। তৃণমূল নেতা রাজু দে-কে গুলি করার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর মোড় নিয়েছে। এই ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে কোচবিহার উত্তরের বিধায়ক সুকুমার রায়ের পুত্রকে, যা নিয়ে গোটা জেলা জুড়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। রাজু দে, যিনি কোচবিহার-২ পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ এবং চকচকা অঞ্চলের প্রাক্তন অঞ্চল সভাপতি, গত বৃহস্পতিবার রাতে বাড়ি ফেরার পথে গুলিবিদ্ধ হন।
পুলিশ সূত্রে খবর, রাজু দে-কে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনায় বিধায়কের ছেলে সহ মোট চারজনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল। তদন্তে নেমে পুলিশ দ্রুত বিধায়কের পুত্র এবং তাঁর ব্যক্তিগত চালককে গ্রেফতার করে। এখনও বাকি দুই অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি চলছে বলে জানা গেছে। এই গ্রেফতারি কোচবিহারের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনার সৃষ্টি করেছে।
বিজেপির পাল্টা অভিযোগ: তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল?
এই ঘটনার পরেই শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে বিজেপি। তাদের অভিযোগ, এটি তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল। বিজেপি নেতৃত্ব দাবি করছে, নিজেদের দলের অন্তর্দ্বন্দ্ব ঢাকতে ইচ্ছাকৃতভাবে কোচবিহার উত্তরের বিধায়ক সুকুমার রায়ের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। তাদের বক্তব্য, কোচবিহার এলাকায় বিজেপির প্রভাব ক্রমশ বাড়ছে এবং ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই গেরুয়া শিবিরের দাপট লক্ষ্যণীয়। এই পরিস্থিতিতে ২০২৬ সালের নির্বাচনে পরিস্থিতি নিজেদের অনুকূলে আনতে মরিয়া তৃণমূল এই ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছে।
গুলিবিদ্ধ তৃণমূল নেতা রাজু দে-এর অবস্থা স্থিতিশীল নয়
গত বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ১১টা নাগাদ কোচবিহারের ঝিনাইডাঙা এলাকা দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন রাজু দে। সেই সময় একটি কালো রঙের স্করপিও গাড়ি থেকে দুষ্কৃতীরা তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। তৃণমূল নেতার ডান কাঁধে গুলি লাগে। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। জানা গেছে, তাঁর একটি অস্ত্রোপচারও হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তিনি আশঙ্কামুক্ত হলেও এখনও তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল নয়।
তৃণমূলের অভিযোগ: বিজেপির গভীর ষড়যন্ত্র
অন্যদিকে, এই হামলার নেপথ্যে বিজেপির গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। যদিও এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক সুকুমার রায়। তাঁর দাবি, “জেলা জুড়ে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব চলছে। ওদের কর্মীরা বিভিন্ন সমাজবিরোধী কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত। নিজেদের মধ্যে গণ্ডগোলের জেরেই এই ঘটনা। এখানে বিজেপির কেউ যুক্ত নেই।” তাঁর এই বিবৃতির ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর ছেলের গ্রেফতারি, এই ঘটনার নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোচবিহারের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী দিনে এই ঘটনার তদন্ত এবং এর রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া কী হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।