কেরলে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা! কুয়োয় পড়ে যাওয়া ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে মৃত্যু বাবার, ছিঁড়ে গেল দড়ি

জল তুলতে গিয়ে কুয়োয় উল্টে পড়েছিলেন এক তরুণ। তাঁকে উদ্ধার করতে গিয়েই মর্মান্তিক পরিণতি হলো আরও একজনের। কুয়োয় দড়ি ধরে নামার সময় আচমকাই ছিঁড়ে যায় সেই দড়ি, আর তাতেই দুজনের সলিল সমাধি হলো। হৃদয়বিদারক এই ঘটনাটি ঘটেছে কেরলের পেরিপল্লি এলাকায়।
কীভাবে ঘটল এই মর্মান্তিক ঘটনা?
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুর আড়াইটে নাগাদ ২৩ বছর বয়সি বিষ্ণু নামের এক তরুণ কুয়ো থেকে জল তুলতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ৯০ ফুট গভীর কুয়োয় পড়ে যান। তার পরিবারের সদস্যদের কান্নার আওয়াজ শুনে স্থানীয় এক কারখানার কর্মী, ৪২ বছর বয়সি হরিলাল দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। বিষ্ণুকে বাঁচাতে তিনি দড়িতে ঝুলে কুয়োয় নামেন। অর্ধেকটা ওপরে উঠে আসার পরেই দড়ি ছিঁড়ে যায় এবং দুজনেই আবার কুয়োয় পড়ে যান। গুরুতর আঘাতের কারণে ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়।
শনিবার সন্ধ্যায় পুলিশ মৃতদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। পুলিশ প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান রেকর্ড করে এবং পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্ত শুরু করেছে।
বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কের জেরে বৃদ্ধকে খুন করে কুয়োয় ফেলল স্ত্রী
এদিকে, মধ্যপ্রদেশের অনুপ্পুর জেলায় বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কের জেরে আরও একটি চাঞ্চল্যকর খুনের ঘটনা ঘটেছে। এক কুয়ো থেকে চটের ব্যাগে ভরা এক বৃদ্ধের দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তদন্তে জানা যায়, প্রতারণা এবং প্রতিশোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বৃদ্ধের তৃতীয় স্ত্রী।
তৃতীয় বিয়ে এবং খুনের পরিকল্পনা
৬০ বছর বয়সী মৃত ব্যক্তি, ভাইয়ালাল রাজাক, তিনবার বিয়ে করেছিলেন। তৃতীয় স্ত্রী মুন্নির সঙ্গে তিনি ভালোই ছিলেন, কিন্তু মুন্নি তার এক পুরনো প্রেমিক, স্থানীয় প্রপার্টি ডিলার নারায়ণ দাস কুশওয়ার সঙ্গে বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। দুজনই সারাজীবন একসঙ্গে থাকার পরিকল্পনা করে। তাই পথের কাঁটা স্বামী ভাইয়ালালকে সরিয়ে ফেলার পরিকল্পনা করে মুন্নি। নারায়ণ এই কাজের জন্য ২৫ বছর বয়সী ধীরজ নামে এক তরুণকে ভাড়া করে।
কী ঘটেছিল সেই রাতে?
গত ৩০ আগস্ট রাতে ভাইয়ালাল যখন তার নির্মীয়মাণ বাড়িতে ঘুমাচ্ছিলেন, তখন নারায়ণ ও ধীরজ লোহার রড দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে তাকে খুন করে। এরপর তারা মৃতদেহটি একটি কম্বলে মুড়িয়ে ব্যাগে ভরে গ্রামের একটি কুয়োয় ফেলে দেয়। পরের দিন ভাইয়ালালের দ্বিতীয় স্ত্রী গুড্ডি বাই কুয়োয় জল তুলতে গিয়ে বস্তাবন্দি দেহটি দেখতে পান।
পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে এবং ৩৬ ঘণ্টার মধ্যেই খুনের কিনারা করে। পুলিশ আধিকারিক মতিউর রহমান জানিয়েছেন, ভাইয়ালালের তৃতীয় স্ত্রী মুন্নি, তার প্রেমিক নারায়ণ এবং ধীরজকে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।