কেরলে বাম দুর্গ ধসছে? ৪৫ বছরের ক্ষমতাসীন সিপিএমকে পিছনে ফেলে তিরুবনন্তপুরম দখলে বিজেপির চমক!

ভারতের একমাত্র বাম দুর্গ কেরলে ক্ষমতাসীন সিপিএম নেতৃত্বাধীন এলডিএফ (LDF) এক বিরাট বিপর্যয়ের মুখে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত পঞ্চায়েত ও পুরসভার নির্বাচনের ফলাফলের প্রবণতা সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। বিশেষ করে কেরলের রাজধানী তিরুবনন্তপুরম পুর নিগমে বিজেপি ইতিহাস গড়ার দোরগোড়ায়।
বিজেপির হাতে তিরুবনন্তপুরম?
কেরলের রাজধানী তিরুবনন্তপুরম পুর নিগমে টানা ৪৫ বছর ধরে ক্ষমতাসীন ছিল সিপিএমের নেতৃত্বাধীন এলডিএফ। কিন্তু এই পুরসভা নির্বাচনে শাসক জোটকে অনেকটা পিছনে ফেলে এগিয়ে গিয়েছে বিজেপি। ১০১টি ওয়ার্ডের মধ্যে বোর্ড গঠনের জন্য ৫১টি আসনের প্রয়োজন। বিজেপি ইতিমধ্যেই ৪৫টি আসনে জয়লাভ করেছে এবং বাকিগুলিতেও এলডিএফের তুলনায় তারা অনেকটাই এগিয়ে। এই পুর নিগম যদি শেষ পর্যন্ত বিজেপি দখল করে, তবে তা হবে কেরলের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনা।
পুরো রাজ্যে বামেদের ধাক্কা, ইউডিএফের দাপট
শুধু রাজধানী নয়, গোটা রাজ্যেই ক্ষমতাসীন সিপিএম ধাক্কা খেতে চলেছে। রাজ্যের বাকি অংশে ভালো মার্জিনে এগিয়ে রয়েছে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট বা ইউডিএফ (UDF)।
পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতি: সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, ইউডিএফ ৪৩৯টি আসনে এগিয়ে রয়েছে, যেখানে এলডিএফ এগিয়ে ৩৭৩টি আসনে। পঞ্চায়েত সমিতিতেও এলডিএফের তুলনায় ইউডিএফ ৮১টি আসনে এগিয়ে।
পুরসভা ও কর্পোরেশন: রাজ্যের ৮৭টি পুরসভার মধ্যে ৫৫টিতে এগিয়ে ইউডিএফ, আর এলডিএফ এগিয়ে মাত্র ২৮টিতে। ছয়টি পুর নিগমের মধ্যে চারটি কর্পোরেশনেই এগিয়ে রয়েছে ইউডিএফ।
তবে পঞ্চায়েতে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ পিছিয়ে রয়েছে, তারা মাত্র ২৩টি আসনে এগিয়ে। পঞ্চায়েত সমিতিতে এখনও খাতা খুলতে পারেনি বিজেপি।
বাংলার ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি?
এই খারাপ ফল নিয়ে বাম মহলে তুমুল চর্চা শুরু হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ২০১১ সালে বাংলায় সিপিএম শাসনের অবসানের প্রথম ইঙ্গিত মিলেছিল ২০০৮ সালের পঞ্চায়েত ভোটে। সেই বিপর্যয়ের পথ ধরে পরবর্তীতে ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তারা ক্ষমতা হারায়। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, কেরলে এই স্থানীয় নির্বাচনের বড় বিপর্যয় কি আগামী মাস তিনেক পর অনুষ্ঠিত হতে চলা বিধানসভা নির্বাচনে বাম শাসনের অবসান ঘটাতে চলেছে? দেশের এই একমাত্র রাজ্যে টিকে থাকা বাম শাসনের কি সমাপ্তি ঘটতে চলেছে? শনিবারের ভোট প্রবণতা সেই জল্পনাই আরও বাড়িয়ে দিল।