কেন হুড়মুড়িয়ে কমছে কোসপি-নিক্কেই? প্রযুক্তি সংস্থাগুলির শেয়ারে ধসের জেরে আতঙ্ক

বিশ্বের শেয়ার বাজারে আজ বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা, অন্যদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং সেমিকন্ডাক্টর স্টকগুলোর ওপর থেকে বিনিয়োগকারীদের আস্থা হ্রাসের ফলে এশীয় বাজারগুলোতে আজ বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী ধস নেমেছে।দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি (KOSPI) সূচক আজ দিনের শুরুতেই ৬.৬% পর্যন্ত পড়ে যায়, যার জেরে লেনদেন সাময়িকভাবে স্থগিত করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। একই অবস্থা জাপানের বেঞ্চমার্ক সূচক নিক্কেই ২২৫-এর ক্ষেত্রেও, যা প্রায় ৩% পতন রেকর্ড করেছে। প্রযুক্তি খাতের दिग्गज সংস্থাগুলোর মধ্যে এসকে হাইনিক্স (SK Hynix) ১১.২% এবং স্যামসাং ইলেকট্রনিক্স ৮.২% পর্যন্ত দর হারিয়েছে। সেমিকন্ডাক্টর কোম্পানিগুলোর প্রতি বিনিয়োগকারীদের এই নেতিবাচক মনোভাবের প্রধান কারণ হলো ডাচ সংস্থা এএসএমএল (ASML)-এর সেই উদ্বেগজনক বার্তা, যেখানে তারা গাড়ি এবং ইলেকট্রনিক্স শিল্পে চাহিদার চরম মন্দার কথা জানিয়েছে। তবে এর বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে ভারতীয় বাজারে। বৈশ্বিক এই নেতিবাচক সংকেত সত্ত্বেও ভারতীয় শেয়ার বাজার আজ কিছুটা স্থিতিশীল। বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের (BSE) সেনসেক্স এবং নিফটি ৫০ সূচক আজ সকালের লেনদেনে সামান্য ঊর্ধ্বমুখী। যদিও বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি খাতের শেয়ারগুলোতে যে পতন দেখা যাচ্ছে, তার প্রভাব অন্যান্য এশিয়ার বাজারেও পড়ছে। এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় অপরিশোধিত তেলের দামও ঊর্ধ্বমুখী। হরমুজ প্রণালীতে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কায় জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার ভয় পাচ্ছেন বিশ্লেষকরা। টানা চার দিন ধরে তেলের দাম বাড়ায় বিশ্ব অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কাও নতুন করে তৈরি হয়েছে। জুলাই মাসে রুপির মান প্রায় ১.৭% হ্রাস পেয়েছে, যা আমদানিকারক দেশ হিসেবে ভারতের ওপর চাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বর্তমানে বাজারের সমস্ত দৃষ্টি এখন তাইওয়ানের টিএসএমসি (TSMC)-এর ত্রৈমাসিক ফলাফলের দিকে, যা বিশ্বব্যাপী এআই চিপের চাহিদার আসল পরিস্থিতি স্পষ্ট করবে।