কেন্দ্রের ৮.২% GDP-তে সিলমোহর নয়! ভারতের পরিসংখ্যানকে ‘C’ গ্রেড ধরিয়ে দিল IMF

সদ্য প্রকাশিত দেশের অভ্যন্তরীণ মোট উৎপাদন বা GDP বৃদ্ধির হার (GDP growth rate) ৮.২ শতাংশ দেখিয়েছে কেন্দ্র। এই সরকারি পরিসংখ্যানের সত্যতা নিয়ে একযোগে সরব হয়েছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি, তাদের দাবি— তথ্যে হেরফের ঘটানো হয়েছে। এই আবহে বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডার (IMF)

IMF তাদের অর্থনৈতিক পরিকাঠামোর বার্ষিক পর্যালোচনায় GDP সহ ভারতের অন্যান্য জাতীয় হিসেব সংক্রান্ত পরিসংখ্যানকে সরাসরি ‘C’ গ্রেড দিয়েছে। IMF-এর নিয়ম অনুসারে, এই ‘C’ গ্রেডের অর্থ হলো, জনগণের সামনে যে অর্থনৈতিক তথ্য তুলে ধরা হচ্ছে, তা ‘ত্রুটিপূর্ণ’ (flawed) এবং এই পরিসংখ্যানের উপর ভিত্তি করে সঠিক নজরদারি বা পর্যবেক্ষণ চালানো কঠিন।

IMF-এর আপত্তির মূল কারণগুলি:

  • ভিত্তি বছর নিয়ে প্রশ্ন: IMF স্পষ্ট প্রশ্ন তুলেছে, অর্থনীতির উৎপাদন সংক্রান্ত পরিকাঠামো এবং মানুষের খরচের অভ্যাস (consumption habits) বদলে গেলেও GDP হিসেব করতে এখনও কেন ২০১১-’১২ সালকে ভিত্তি হিসেবে ধরা হচ্ছে?

  • হিসাবে অসঙ্গতি: IMF দাবি করেছে, GDP নির্ধারণে উৎপাদন (Production) এবং খরচের (Expenditure) হিসেবের মধ্যে অসঙ্গতি রয়েছে।

  • তথ্য সংগ্রহে ত্রুটি: আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডার জানিয়েছে, কেন্দ্র প্রকাশিত অর্থনীতি সংক্রান্ত তথ্য পর্যাপ্ত নয় এবং সেই তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের পদ্ধতিও ত্রুটিপূর্ণ

  • অসংগঠিত ক্ষেত্র: GDP-র হিসাবে অসংগঠিত ক্ষেত্র (unorganized sector)-এর ওপর আরও বেশি গুরুত্ব আরোপের কথা বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, সরকার আয় (Income) এবং খরচ (Expenditure)—দুই নিরিখেই GDP নির্ধারণ করলেও, তথ্যের উৎস এবং নজরদারিতে ফারাক থাকার কারণে হিসেবে ভিন্নতা দেখা যায়, যা নিয়ে বহুদিন ধরেই অর্থনীতিবিদরা প্রশ্ন তুলে এসেছেন। এবার IMF সেই বিতর্ককেই সামনে নিয়ে এল। অন্যদিকে, যে ক্রেতা মূল্য সূচকের (Consumer Price Index – CPI) নিরিখে ভারত মুদ্রাস্ফীতি নির্ধারণ করে, সেটিকে IMF ‘B’ গ্রেডের আওতায় রেখেছে। অর্থাৎ, সেই তথ্যেও ত্রুটি থাকলেও নজরদারি চালানো সম্ভব। বিরোধীদের দাবি, IMF-এর এই রিপোর্ট সরকারের অর্থনৈতিক পরিসংখ্যানের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy