কেতন হত্যাকাণ্ডে নয়া মোড়! মুম্বই-পুণে এক্সপ্রেসওয়েতে ক্যাবের ডিকি খুলেছিলেন সিয়া? মুখ খুললেন চালক

২৬ বছর বয়সী কেতন আগরওয়ালের রহস্যময় হত্যাকাণ্ডের তদন্তে এক চাঞ্চল্যকর মোড় এল। বালি-তে প্রি-ওয়েডিং ফটোশুটের জন্য যাওয়ার পথে কেতনের পাসপোর্ট হারিয়ে যাওয়া এবং পরবর্তীতে তাঁর মর্মান্তিক মৃত্যু—পুরো ঘটনাটি নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না। তবে এই খুনের কিনারা করতে গিয়ে তদন্তকারী অফিসারদের হাতে এসেছে এক ক্যাব চালকের বিস্ফোরক বয়ান।

‘আজ তক’-এর সাথে এক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে ক্যাব চালক বৈভব যাদব জানিয়েছেন, ঘটনার দিন সকাল ১০টা নাগাদ পুণে থেকে তিনি সিয়া গয়াল এবং তাঁর ভাই সাহিলকে গাড়িতে তোলেন। চালকের দাবি, সিয়া প্রথমে গাড়িতে উঠতে অস্বীকার করেছিলেন, তখন তাঁর ভাই সাহিল জোর করে তাঁকে গাড়ির ভেতর বসান। এরপর রাভেত থেকে কেতনকে নিয়ে তাঁরা মুম্বই বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা হন।

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনাটি ঘটে মুম্বই-পুণে এক্সপ্রেসওয়েতে। চালকের বক্তব্য অনুযায়ী, সিয়া চা খাওয়ার অছিলায় একটি ফুড মলে গাড়ি থামাতে বলেন। চালক গাড়ি থামান। প্রায় ১০ মিনিট পর সিয়া গাড়ির কাছে ফিরে এসে চালককে নির্দেশ দেন ক্যাবের ডিকি খুলে দেওয়ার জন্য। চালক ডিকি খুলে দিলে সিয়া সেখান থেকে নিজের পার্স দিয়ে কিছু একটা বের করেন। ডিকিতে ঠিক কী ছিল, তা চালক নিশ্চিত করতে না পারলেও, এই ঘটনাটি খুনের পরিকল্পনার বড় প্রমাণ হতে পারে বলে মনে করছে পুলিশ।

চালকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কেতন গাড়িতে ওঠার আগে থেকেই পুণেতে সিয়া ও তাঁর ভাই সাহিলের মধ্যে তীব্র ঝগড়া চলছিল। বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর চালক জানতে পারেন, একটি ছোট ব্যাগ গাড়িতেই ভুলে ফেলে গেছেন যাত্রীরা। তিনি গাড়ি ঘুরিয়ে প্রায় ২০০ মিটার পিছিয়ে গিয়ে ব্যাগটি তাঁদের ফেরত দেন।

তদন্তকারীরা এখন সিয়া, সাহিল এবং কেতনের বন্ধুবান্ধবদের নতুন করে জেরা করছেন। বিশেষ করে পাসপোর্ট গায়েব হওয়ার বিষয়টি সিসিটিভি ফুটেজের সাথে মিলিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা। এই ক্যাব চালকের বয়ান তদন্তকারীদের সামনে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে যে, সিয়া কি ডিকিতে কেতনের পাসপোর্ট বা কোনো গুরুত্বপূর্ণ নথি গোপন করেছিলেন? নাকি অন্য কোনো রহস্য লুকিয়ে আছে ওই চা-বিরতির আড়ালে? এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিটি সূত্র এখন বড় ষড়যন্ত্রের দিকেই ইঙ্গিত করছে।