“কেউ ফ্যানে ঝুললেন, কেউ খেলেন বিষ!” মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে নয়ডায় ১৫ জনের রহস্যমৃত্যুতে থমথমে এলাকা

জাতীয় রাজধানী দিল্লির সংলগ্ন উত্তরপ্রদেশের নয়ডায় গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঘটা ধারাবাহিক মৃত্যুর ঘটনায় গোটা এলাকায় চরম চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়েছে। মাত্র একদিনের ব্যবধানে সেখানে মোট ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ছয়জন বিভিন্ন স্থানে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেলেও, বাকি নয়জনের মৃত্যু হয়েছে অত্যন্ত রহস্যজনক পরিস্থিতিতে। খবর পাওয়ার পরই নয়ডা পুলিশ তড়িঘড়ি সমস্ত মৃতদেহগুলি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে এবং ঘটনার নেপথ্যের প্রকৃত কারণ খুঁজতে জোরদার তদন্ত শুরু করেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মর্মান্তিক আত্মহত্যার ঘটনাগুলির মধ্যে কয়েকটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বুধবার সকালে সেক্টর-৩৯ থানা এলাকার সাদরপুর কলোনিতে রাজীব (৪০) নামের এক বেসরকারি সংস্থার কর্মী সিলিং ফ্যানে ঝুলে আত্মহত্যা করেন। তিনি মূলত বিহারের মুজাফফরপুরের বাসিন্দা ছিলেন। একইভাবে, সেক্টর-৪৯ থানা এলাকার বারৌলা গ্রামে রাজু (৪২) নামে এক ব্যক্তি নিজের ভাড়া বাড়িতে গলায় ফাঁস দেন। অন্যদিকে, সেক্টর-১২৬ থানা এলাকার আসগরপুর গ্রামে সায়রা বানু (২৪) নামের এক তরুণীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়, যাঁর মাত্র দু’বছর আগে বিয়ে হয়েছিল। এছাড়াও বিষপানে জীবন শেষ করেছেন বুলন্দশহরের অঙ্কিত (২৬)। ফেজ-১ এলাকার আফজল (২৮) এবং বিসরাখের ময়ঙ্ক গুপ্ত (৩৪)-এর আত্মহত্যার খবরও নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

শুধু আত্মহত্যাই নয়, এর পাশাপাশি রহস্যজনক পরিস্থিতিতে মৃতদের তালিকায় রয়েছেন দাদরির টিপু সুলতান (২৮) ও গুড়িয়া (৩২), বিসরাখের পুলকিত গৌতম (২৬), সেক্টর-৩৯ এর সঞ্জয় কুমার (৩০) এবং বেটা-২ এলাকার অখিলেশ (২৫)। খোদা কলোনির দীনেশ ওরফে গুড্ডু (৪০), সুরজপুরের সোনু (৩২), ফেজ-২ এর মনীশ (১৯) এবং জেওয়ারের করমবীর (৪৮)-এর মতো ব্যক্তিদের সন্দেহজনক মৃত্যু নিয়েও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

একাধিক মানুষের এই রহস্যজনক ও মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর সামনে আসতেই মৃতদের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ মৃতদের আত্মীয় ও পরিচিতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই সুনির্দিষ্ট মৃত্যুর কারণগুলি খতিয়ে দেখছে।