“মহারাষ্ট্র শহুরে মাওবাদীদের মূল কেন্দ্র!” হাইকোর্টে ৬৪টি সংগঠনের বিস্ফোরক তালিকা দিয়ে সাফাই দিল সরকার

মহারাষ্ট্র বর্তমানে শহুরে মাওবাদী কার্যকলাপের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রস্থল হয়ে উঠেছে বলে দাবি করল রাজ্য সরকার। বেআইনি, অন্তর্ঘাতমূলক ও চরমপন্থী কার্যকলাপ কঠোরভাবে প্রতিরোধ করার পক্ষেই সওয়াল করে বোম্বে হাইকোর্টে একটি গুরুত্বপূর্ণ হলফনামা পেশ করেছে দেবেন্দ্র ফড়নবীশ সরকার। গত ৬ অক্টোবর দাখিল করা ওই হলফনামায় চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়ে সরকার জানিয়েছে যে, বর্তমানে সারা দেশের মধ্যে মহারাষ্ট্রেই সর্বাধিক অর্থাৎ ৬৪টি সক্রিয় মাওবাদী সহযোগী ও ফ্রন্টাল সংগঠন রয়েছে।
রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, এই ধরনের বিপদজনক ও গোপন নেটওয়ার্কগুলির ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি রোখার জন্যই একটি বিশেষ আইনি কাঠামোর অত্যন্ত প্রয়োজন ছিল। প্রসঙ্গত, মহারাষ্ট্র বিধানসভায় পাস হওয়ার পর গত ডিসেম্বর ২০২৫-এ রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভ করে ‘মহারাষ্ট্র বিশেষ জননিরাপত্তা আইন’। তবে এই আইন প্রণয়নের পরেই এর সাংবিধানিক বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে বোম্বে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করে কংগ্রেস, সিপিআই সহ বেশ কয়েকটি আবেদনকারী দল।
আবেদনকারীদের প্রধান অভিযোগ ছিল, এই আইনের জেরে সরকার যেকোনো সংগঠনকে বেআইনি ঘোষণা করা এবং তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত ব্যাপক ও স্বেচ্ছাচারী ক্ষমতা পেয়ে যাচ্ছে। এর উত্তরে সরকারের পক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয়েছে যে, এই আইন পাস করার আগে একটি যৌথ কমিটির কাছে জমা পড়া ১৫,০০০-এরও বেশি লিখিত আপত্তি ও পরামর্শ বিবেচনা করা হয়েছিল এবং সেই অনুযায়ী বেশ কিছু বিধান সংশোধনও করা হয়। তাছাড়া, এই আইনের কারণে আবেদনকারীদের ঠিক কী ধরনের প্রত্যক্ষ আইনি ক্ষতি হয়েছে, তাঁরা তার কোনো উপযুক্ত প্রমাণও আদালতে পেশ করতে পারেননি।
উল্লেখ্য, জনগণের মৌলিক অধিকার, জনশৃঙ্খলা এবং দেশের জাতীয় অখণ্ডতার মধ্যে একটি সুষম ভারসাম্য বজায় রাখাই এই আইনের মূল উদ্দেশ্য বলে দাবি করেছে সরকার। আগামী ১৩ অক্টোবর, ২০২৬ এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে, যেখানে বোম্বে হাইকোর্ট এই সাংবিধানিক চ্যালেঞ্জের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারে।