কৃষ্ণনগরের BLO-র মৃত্যু, তৃণমূলকে ‘শকুন’-এর সঙ্গে তুলনা রাহুল সিনহার, সিবিআই তদন্তের দাবি

কৃষ্ণনগরে বিএলও (BLO) রিঙ্কু তরফদারের আত্মহত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। এই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশনকে ‘অমানবিক কাজের চাপ’ দেওয়ার জন্য দায়ী করে টুইট করার পরই এবার মুখ খুলল রাজ্যের বিরোধী দল বিজেপি।
বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা তৃণমূলকে সরাসরি ‘শকুনের’ সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি বলেন, “তৃণমূল আর শকুনের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। শকুন আকাশে উড়তে উড়তে কোথায় কোনো মানুষ মারা গিয়েছে তার প্রতি নজর রাখে, আর যখনই মৃতদেহ পায়, সেই পশুর মৃতদেহের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তৃণমূলও ঠিক তাই। সর্বত্র চোখ রাখছে কে কোথায় আত্মহত্যা করছে, কে কোথায় মারা যায়। কেউ যদি অসুস্থতাতেও মারা যায়, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে এসআইআর বোর্ড নিয়ে হাজির হয়ে যায়। একদম শকুনের ভূমিকা তৃণমূলের অভিনয় মানুষ বুঝতে পারছে।”
মুখ্যমন্ত্রীকে খোলা অফার: সিবিআই তদন্ত হোক
কৃষ্ণনগরের ষষ্ঠীতলার বাসিন্দা, বছর একান্নর রিঙ্কু তরফদারের আত্মহত্যার পর তাঁর পাশ থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়। তাতে তিনি লেখেন, ‘বিএলও-র কাজ তুলতে না পারলে প্রশাসনিক চাপ আসবে। তা আমার পক্ষে নেওয়া সম্ভব নয়।’ এবং নির্বাচন কমিশনকেও দোষারোপ করা হয়েছে।
এই মৃত্যু দুর্ভাগ্যজনক উল্লেখ করে রাহুল সিনহা বলেন, “কী স্পিড! মুখ্যমন্ত্রী পর্যন্ত টুইট করেছেন। চাকরিহারারা যখন রাস্তায় বসেছিল, সেই সময় তো টুইট করেননি। আসলে এখন এসআইআর থেকে বাঁচতে হবে। মৃতদহ নিয়ে রাজনীতি করতে হবে। আমরা মুখ্যমন্ত্রীকে খোলা অফার দিতে চায়। রিঙ্কু দেবীর মৃত্যু নিয়ে সিবিআই তদন্ত হোক।“
রাহুল সিনহার এই মন্তব্য স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার কাজের চাপজনিত কারণে বিএলও-দের মৃত্যু এখন শাসক ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে নতুন রাজনৈতিক অস্ত্র হয়ে উঠেছে।