কেন্দ্রীয় সরকার কৃষকদের মুখে হাসি ফোটাতে বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে। জিএসটি কাউন্সিল তার ৫৬তম বৈঠকে কৃষি খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু পণ্যের উপর কর কমানোর কথা বিবেচনা করছে। এই পরিবর্তনের ফলে ট্রাক্টর, কৃষি সরঞ্জাম, সেচ ব্যবস্থা এবং সারের মতো প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আরও সাশ্রয়ী হতে পারে, যার সরাসরি সুফল পাবেন দেশের কোটি কোটি কৃষক।
যেসব পণ্যের দাম কমবে
কৃষি যন্ত্রপাতি: এতদিন ট্রাক্টর এবং অন্যান্য কৃষি সরঞ্জাম কেনার সময় কৃষকদের যে অতিরিক্ত জিএসটি দিতে হতো, তা কমানোর প্রস্তাব এসেছে। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে ট্রাক্টরের ওপর মাত্র ৫% জিএসটি আরোপ করা হতে পারে। এছাড়াও, বীজ ড্রিল, থ্রেসার, হ্যারো-এর মতো যন্ত্রপাতির ওপরও কর কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
সার: ফার্টিলাইজেশন অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া (FAI) সরকারকে অনুরোধ করেছে, সার তৈরির প্রধান কাঁচামাল অ্যামোনিয়া এবং সালফিউরিক অ্যাসিডের উপর জিএসটি ১৮% থেকে কমিয়ে ৫% করা হোক। কারণ, তৈরি সারের উপর মাত্র ৫% জিএসটি থাকলেও, কাঁচামালের উচ্চ করের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়, যার বোঝা শেষ পর্যন্ত কৃষকদের উপরই পড়ে। সরকার এই প্রস্তাব মেনে নিলে বাজারে সারের দাম কমবে।
সেচ সরঞ্জাম: সেচের কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতির উপরও ৫% জিএসটি আরোপের প্রস্তুতি চলছে।
কেন এই পরিবর্তন জরুরি?
FAI-এর মতে, কাঁচামালের ওপর উচ্চ কর এবং তৈরি পণ্যের ওপর কম কর থাকার কারণে সার উৎপাদনকারী সংস্থাগুলির কাছে প্রায় ৫,৫০০ কোটি টাকার ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট (ITC) জমে আছে, যা তারা ব্যবহার করতে পারছে না। এই আর্থিক ভারসাম্যহীনতা দূর করতে সরকার যদি কাঁচামালের ওপর কর কমায়, তাহলে সার কোম্পানিগুলো আর্থিক চাপ থেকে মুক্ত হবে এবং সময়মতো উৎপাদন ও সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারবে।
গত ২৬ আগস্ট FAI-এর একটি প্রতিনিধিদল অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের সঙ্গে দেখা করে এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন। আশা করা হচ্ছে, আগামী ৩-৪ সেপ্টেম্বরের জিএসটি কাউন্সিলের বৈঠকে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।