কাশ্মীর-মণিপুর থেকে সরছে বাহিনী, লক্ষ্য কি বাংলা দখল? স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযোগ মহুয়ার

রাজ্যে প্রথম দফার ভোটের আগে কেন্দ্রীয় বাহিনীর অতি-সক্রিয়তা নিয়ে এবার রণংদেহী মেজাজে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। কলকাতার সায়েন্স সিটিতে সিএপিএফ (CAPF) প্রধানদের গোপন বৈঠককে কেন্দ্র করে ‘মিলিটারি কায়দায় ক্ষমতা দখলের’ অভিযোগ তুললেন তিনি। মহুয়ার নিশানায় খোদ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এবং বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব।

কী এই ‘অপারেশন মছছি বনধ’?

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) একটি পোস্টে মহুয়া মৈত্র সরাসরি আক্রমণ শানিয়েছেন বিজেপির দিকে। তিনি অভিযোগ করেছেন, কাশ্মীর এবং মণিপুরের মতো স্পর্শকাতর এলাকা থেকে বাহিনী সরিয়ে এনে পশ্চিমবঙ্গে ঢোকানো হচ্ছে। মহুয়ার ভাষায়, “মাছ বন্ধ করানোর প্রস্তুতি পুরোদমে। মিলিটারি স্টাইলে দখল করতে বিজেপি ও জ্ঞানেশ দাদু শীর্ষ সিএপিএফদের নিয়ে এসেছেন!” তাঁর এই ‘মছছি বনধ’ বা মাছ বন্ধ করার তত্ত্বে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

নজিরবিহীন বৈঠক: চাপে শাসকদল?

সংবাদ সংস্থা পিটিআই-এর তথ্য অনুযায়ী, অতীতে কোনও রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের আগে সিএপিএফ-এর সমস্ত ইউনিটের প্রধানদের নিয়ে এমন যৌথ বৈঠক হয়নি। কোনও কোনও সিনিয়র কর্মকর্তা একে ‘নজিরবিহীন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তৃণমূলের দাবি, এটি কোনও রুটিন বৈঠক নয়, বরং কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে ব্যবহার করে ভোটারদের ভয় দেখানোর একটি নীল নকশা।

প্রথম দফায় ২,৪০৭ কোম্পানি বাহিনী: দুর্ভেদ্য দুর্গ মুর্শিদাবাদ

নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, আগামী ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোটগ্রহণের জন্য রেকর্ড সংখ্যক ২,৪০৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে। এর মধ্যে সবথেকে বেশি নজর দেওয়া হয়েছে মুর্শিদাবাদে।

  • মুর্শিদাবাদ: মোট ৩১৬ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েন থাকবে।

  • অন্যান্য জেলা: দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, মেদিনীপুর, বাঁকুড়া ও বীরভূমের মতো জেলাগুলিতেও থাকছে কড়া নিরাপত্তা।

কমিশনের দাবি, ভোটারদের মনে আস্থা ফেরাতেই এই রুট মার্চ ও বিশাল বাহিনী মোতায়েন। তবে মহুয়া মৈত্রর অভিযোগের পর বিষয়টি এখন কেবল নিরাপত্তা নয়, বরং বড়সড় রাজনৈতিক লড়াইয়ের আকার নিয়েছে।

ভোটের দিনক্ষণ একনজরে:

  • প্রথম দফা: ২৩ এপ্রিল (১৫২ আসন)

  • দ্বিতীয় দফা: ২৯ এপ্রিল (১৪২ আসন)

  • ফলাফল: ৪ মে

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy