ভোটমুখী বাংলায় এবার কি সরাসরি সংঘাতের পথে ইন্ডিয়া জোটের দুই শরিক? আগামী ২৩ এপ্রিল কলকাতায় রাহুল গান্ধীর হাইভোল্টেজ সভা ঘিরে শুরু হলো তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা। সভার অনুমতি দেয়নি প্রশাসন— এই অভিযোগে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের দিকে সরাসরি আঙুল তুলল কংগ্রেস শিবির।
সভার অনুমতি নিয়ে দড়ি টানাটানি: দলীয় সূত্রে খবর, ২৩ এপ্রিল কলকাতার রাজপথে নির্বাচনী প্রচারের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল রাহুল গান্ধীর। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত প্রশাসনের গ্রিন সিগন্যালের অপেক্ষায় ছিল কংগ্রেস নেতৃত্ব। কিন্তু স্থানীয় পুলিশের পক্ষ থেকে কোনও সবুজ সংকেত না মেলায় শেষ মুহূর্তে সভা বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে দল।
কংগ্রেসের অভিযোগ ও পরবর্তী পরিকল্পনা: কংগ্রেসের স্পষ্ট দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের নির্দেশেই পুলিশ-প্রশাসন এই সভার অনুমতি আটকে দিয়েছে। রাজ্যে বাম-কংগ্রেস জোট তৃণমূল ও বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করলেও জাতীয় স্তরে তারা একজোট। এই পরিস্থিতিতে রাহুলের সভায় প্রশাসনের বাধা দেওয়াকে মোটেই ভালোভাবে দেখছে না প্রদেশ কংগ্রেস। তবে লড়াই ছাড়তে নারাজ তারা। সূত্র মারফত খবর, আগামী ২৫ বা ২৬ এপ্রিল ফের নতুন করে সফরের দিন স্থির করে অনুমতির জন্য আবেদন জানানো হবে।
ভোটের সমীকরণ ও ‘ইন্ডিয়া’ জোটের ভবিষ্যৎ: ২৯৪ আসনের বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট দরজায় কড়া নাড়ছে। যখন তৃণমূল-বিজেপি দ্বিমুখী লড়াইয়ে নামছে, তখন বাম-কংগ্রেস জোট লড়াইকে ত্রিমুখী করতে মরিয়া। ২০২১-এর ভরাডুবির পর এবারের নির্বাচন কংগ্রেসের কাছে অস্তিত্বের লড়াই। এই জটিল আবহে রাহুল গান্ধীর সভা ঘিরে প্রশাসনিক জটিলতা তৃণমূল ও কংগ্রেসের পারস্পরিক সম্পর্কে নতুন করে ফাটল ধরিয়ে দিল কি না, তা নিয়ে সরগরম রাজ্য রাজনীতি।
তৃণমূল অবশ্য প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে নিছকই নিরাপত্তা সংক্রান্ত বলে দাবি করছে। তবে ভোটের ময়দানে রাহুলের এই সফর বাতিল হওয়া যে বিরোধীদের হাতে নতুন অস্ত্র তুলে দিল, তা বলাই বাহুল্য।





