কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বাতিলের মাস্টারমাইন্ড! দেশের নতুন গোয়েন্দা প্রধান হলেন মহেশ দীক্ষিত

ভারতীয় গোয়েন্দা মহলে বড়সড় রদবদল। ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (IB)-র নতুন প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন ১৯৯৩ ব্যাচের অন্ধ্রপ্রদেশ ক্যাডারের আইপিএস অফিসার মহেশ দীক্ষিত। দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং স্পর্শকাতর গোয়েন্দা কার্যক্রমে তাঁর অসামান্য দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার কথা মাথায় রেখেই এই গুরুত্বপূর্ণ পদে তাঁকে বসানো হলো।

কাশ্মীরের ‘ক্রাইসিস ম্যানেজার’:

মহেশ দীক্ষিতের নাম সবার আগে আলোচনায় আসে ২০১৯ সালের অগস্ট মাসে। জম্মু-কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের সময় অত্যন্ত স্পর্শকাতর পরিস্থিতিতে তিনি শ্রীনগরে ‘সাবসিডিয়ারি ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো’ (SIB)-র প্রধান হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। সেই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতিতে কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাঁর নিখুঁত গ্রাউন্ড ইনপুট ও গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক ছিল প্রশাসনের প্রধান অস্ত্র। পাঁচ বছর ধরে কাশ্মীর ও লেহ-র গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেছেন, যেকোনো জটিল পরিস্থিতি সামলানো তাঁর বাঁ হাতের খেলা।

যিনি রহস্যের সমাধানে ওস্তাদ:

গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে যে গম্ভীর প্রতিকৃতি থাকে, মহেশ দীক্ষিত তার চেয়ে কিছুটা আলাদা। সহকর্মীদের মতে, আইবির হাতেগোনা যে কয়েকজন অফিসার যেকোনো পরিস্থিতির মাঝেও হাসিখুশি থাকতে পারেন, দীক্ষিত তাঁদের অন্যতম। তবে তাঁর এই হাসিখুশি স্বভাবের আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে প্রখর ধীশক্তি। যেকোনো সমস্যার খুঁটিনাটি বিশ্লেষণ করে নিখুঁত সমাধান বের করায় তাঁর জুড়ি মেলা ভার।

পুরস্কার ও স্বীকৃতি: পেশাগত জীবনে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি বহুবার সম্মানিত হয়েছেন। তাঁর ঝুলিতে রয়েছে:

  • প্রেসিডেন্টস পুলিশ মেডেল (২০১৬)

  • পুলিশ মেডেল (২০০৯)

  • পুলিশ অভ্যন্তরীণ সুরক্ষা সেবা পদক (২০০৪)

এতদিন তিনি আইবির বিশেষ পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এবার দেশের গোয়েন্দা প্রধান হিসেবে সন্ত্রাসবাদ দমন এবং দেশের অভ্যন্তরীণ সুরক্ষা মজবুত করাই হবে তাঁর প্রধান লক্ষ্য। তাঁর এই নিয়োগের ফলে দেশের গোয়েন্দা পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী হবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।