কালীমূর্তি মাদার মেরিতে রূপান্তরিত! পুরোহিত গ্রেফতার, নেপথ্যে কি বড় ষড়যন্ত্র?

মহারাষ্ট্রের বাণিজ্য নগরীতে এবার এক নজিরবিহীন ধর্মীয় বিতর্ক! মুম্বাইয়ের চেম্বুর এলাকার আনিক গ্রামের শ্মশানের মাঠে অবস্থিত একটি কালীমন্দিরে শ্মশানকালীর মূল বিগ্রহের সাজসজ্জা ও রূপ বদলে ফেলার ঘটনায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে। হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর তীব্র বিক্ষোভের মুখে শেষ পর্যন্ত মন্দিরটির পুরোহিতকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
কী ঘটেছিল মন্দিরে?
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মন্দিরটির কালীমূর্তিতে হঠাৎই ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ছবিগুলিতে দেখা যায়—
সাজসজ্জা পরিবর্তন: দেবী মূর্তিকে সোনালী কাপড়ে সুসজ্জিত করা হয়েছে।
মাদার মেরির ধাঁচ: মূর্তির মাথায় রয়েছে ক্রুশযুক্ত মুকুট এবং চিরাচরিত নীল বা কালো রঙের বদলে মূর্তিটি ধবধবে সাদা রঙের।
শিশু যিশু?: মূর্তির কোলে রয়েছে আরও একটি ছোট বিগ্রহ, যা স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী শিশু যিশুর প্রতিরূপ।
বিপরীত বৈশিষ্ট্য: যদিও এই সাজসজ্জা মাদার মেরির মতো, তবুও মূর্তিতে কালীর মতোই জিভ বের করা রয়েছে, যা এই ঘটনাকে আরও অদ্ভুত করে তুলেছে।
বেদি অপসারণ: মন্দির থেকে দেবী কালীর পুরনো বেদিটিও সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
পুরোহিতের স্বপ্নাদেশ, বিক্ষোভকারীদের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ
বিগ্রহের এই আমূল পরিবর্তন এবং ‘মাদার মেরির’ আদলে মূর্তিকে সাজিয়ে তোলার ছবি দ্রুত ভাইরাল হতেই মন্দির চত্বরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলি, যার মধ্যে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (VHP) এবং বজরং দল রয়েছে, তারা পুরোহিতকে ঘিরে বিক্ষোভ শুরু করে।
এই পরিস্থিতিতে পুরোহিত নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে এক চাঞ্চল্যকর দাবি করেন:
“আমি মা কালীর স্বপ্নাদেশ পেয়েছি। স্বপ্নে দেবী নিজেই তাঁকে মাদার মেরি হিসেবে সাজসজ্জা বদলের নির্দেশ দেন। সেই স্বপ্নাদেশ মেনেই বিগ্রহের সাজ পরিবর্তন করা হয়েছে।”
তবে বিক্ষোভকারীরা এই যুক্তি মানতে নারাজ। তাদের অভিযোগ, এটি ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত হানার একটি বৃহত্তর ষড়যন্ত্র, এবং কোনো মহল পুরোহিতকে দিয়ে এই কাজটি করিয়েছে।
পুলিশি পদক্ষেপ ও মামলা দায়ের
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। আসল কালীমূর্তিটি ফিরিয়ে আনা হয়। পুরোহিতকে প্রথমে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়।
তদন্তের পর পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ২৯৯ ধারায় মামলা দায়ের করে গ্রেফতার করেছে। ধারায় ধর্মবিশ্বাসে আঘাত হানা এবং ধর্মস্থলের ক্ষতিসাধনের অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ব হিন্দু পরিষদ এবং বজরং দল এই ঘটনার নেপথ্যের প্রকৃত ষড়যন্ত্রকারীদের খুঁজে বের করে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে, পুরোহিত একাই এই ঘটনা ঘটিয়েছেন, নাকি এর নেপথ্যে অন্য কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ইন্ধন ছিল।