কালীপূজাতেও বিদ্যুৎ বিলে ছাড় চায় পুজো কমিটি! নগরপাল মনোজ ভর্মার সমন্বয় বৈঠকে যে ৩টি বিষয় নিয়ে তুঙ্গে আলোচনা

দুর্গাপুজোর ধুমধাম পেরিয়ে এখন শহর মুখিয়ে কালীপুজোর (Kalipuja in West Bengal) প্রস্তুতিতে। এই উপলক্ষে বুধবার সন্ধ্যায় কলকাতার ধনধান্য স্টেডিয়ামে আয়োজিত হল কালীপুজো নিয়ে কলকাতা পুলিশের (Kolkata Police) এক সমন্বয় বৈঠক। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নগরপাল মনোজ ভর্মা, দমকল, কলকাতা পুরসভার প্রতিনিধিরা এবং শহরের প্রায় সমস্ত বড় পুজো কমিটির উদ্যোক্তারা।
আলোচনার কেন্দ্রে ৩টি দাবি: কার্নিভাল, ছাড় ও বাজি
এদিনের বৈঠকে মূলত তিনটি বিষয় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল— কালীপুজোয় কার্নিভালের আয়োজন, বিদ্যুৎ বিলে ছাড় এবং বাজি ও ফানুস নিয়ে সতর্কতা।
বৈঠকে বহু উদ্যোক্তা দাবি তোলেন, দুর্গাপুজোর মতো কালীপুজোতেও যেন কার্নিভালের আয়োজন করা হয়। তাঁদের মতে, কালীপুজো এখন শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হিসেবেও বিশাল জায়গা করে নিয়েছে। তাই পুজোর মর্যাদা ও প্রচারের জন্য কার্নিভাল অপরিহার্য।
পুজো উদ্যোক্তা আশিস রায় বলেন:
“দুর্গাপুজোয় যদি অনুদান, কার্নিভাল ও বিদ্যুৎ বিলে ছাড় পাওয়া যায়, কালীপুজোয় তা হবে না কেন? আমরা চাইছি, বিদ্যুৎ বিলে কিছুটা ছাড় দেওয়া হোক। এই সময় আলোর সাজে পুজো মণ্ডপ আলোকিত করায় বিদ্যুৎ খরচ প্রচুর হয়। ছাড় পেলে অনেক কমিটি উপকৃত হবে।”
নগরপালের কড়া বার্তা: আইন ভাঙা চলবে না
উৎসবের আনন্দে কোনওভাবে আইন ভাঙা চলবে না—এই বার্তা স্পষ্ট ভাষায় দিয়ে দিয়েছেন নগরপাল মনোজ ভর্মা। তিনি বলেন, বাজি পোড়ানো বা ফানুস ওড়ানোর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম মানতেই হবে।
বাজি ও ফানুস: পরিবেশ দূষণ এবং অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি মাথায় রেখে সব পুজো কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেন তারা উচ্চডেসিবেল বাজি ব্যবহার না করে এবং অনুমোদনহীন ফানুস না ওড়ায়।
নিরাপত্তা: নগরপাল জানান, পুলিশ প্রশাসন ও দমকল বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় রেখে পুজোর নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। যে কোনও ধরনের বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
বৈঠকে কলকাতা পুরসভার পক্ষ থেকে মণ্ডপের সাফাই, পানীয় জলের ব্যবস্থা নিয়ে প্রস্তুতির কথা জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, দমকল বিভাগ জানিয়েছে, বড় পুজো মণ্ডপে অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র থাকা বাধ্যতামূলক।