‘কালা নজর’ তাড়ানোর নামে ফ্ল্যাটে ঢুকেই পাশবিক অত্যাচার! ভিন্বেশে অপরাধ চালিয়ে কীভাবে ধরা পড়ল এই ব্যক্তি?

মুম্বইয়ের পোওয়াই এলাকায় ঘটে গেল এক লোমহর্ষক এবং চাঞ্চল্যকর অপরাধের ঘটনা। রূপান্তরকামী সেজে এক বিমানসেবিকাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করার অভিযোগে এক যুবককে দ্রুত গ্রেপ্তার করেছে মুম্বই পুলিশ। ঘটনার আকস্মিকতা ও নৃশংসতায় গোটা এলাকায় চরম আতঙ্ক এবং চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী মহিলার অভিযোগের ভিত্তিতে মাত্র চার ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তকে পাকড়াও করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে পাওয়া প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ আগস্ট এই নারকীয় ঘটনাটি সংঘটিত হয়। অভিযুক্ত ব্যক্তি মহিলার বাড়িতে জোরপূর্বক প্রবেশ করার এক অদ্ভুত কৌশল অবলম্বন করেছিল। সে নিজেকে তান্ত্রিক বা ওঝা হিসেবে জাহির করে এবং দাবি করে যে মহিলার অসুস্থ স্বামীকে সম্পূর্ণ সুস্থ করে তোলার ক্ষমতা তার রয়েছে। ঘরের সমস্ত ‘কালা নজর’ বা অশুভ ছায়া দূর করার ভুয়া দাবি তুলে সে ওই মহিলার ফ্ল্যাটে ঢুকে পড়ে। কেউ যাতে দূর থেকে কোনো রকম সন্দেহ করতে না পারে, সেই কারণে সে বিশেষভাবে শাড়ি পরিধান করে এবং কপালে বড় টিপ পরে রূপান্তরকামী বা হিজড়ার ছদ্মবেশ ধারণ করেছিল। এরপর ফ্ল্যাটের ভেতরে একা পেয়ে ওই বিমানসেবিকাকে চরম শারীরিক নির্যাতন ও ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ।
ঘটনার পরপরই আতঙ্কিত ও ভুক্তভোগী মহিলা পোওয়াই থানায় এসে সমস্ত বিষয়টি জানিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। মহিলার অভিযোগের গুরুত্ব বিচার করে পোওয়াই থানার পুলিশ অবিলম্বে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ৬৪ (১) এবং ৩৫১ (২) ধারায় সুনির্দিষ্ট মামলা রুজু করে। এরপর অপরাধীকে ধরতে পুলিশি তল্লাশি অভিযান শুরু হয়। তদন্তকারী দল ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তা নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণ করতে শুরু করে। ফুটেজে পরিষ্কার দেখা যায় যে, অভিযুক্ত ঘটনার পর একটি অটোতে চড়ে দ্রুত ওই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে।
প্রযুক্তিগত নজরদারি এবং মানব গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে পুলিশ জানতে পারে যে অভিযুক্ত ব্যক্তি থানে এলাকার কালওয়া বস্তি অঞ্চলে লুকিয়ে রয়েছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সেখানে হানা দিয়ে অভিযুক্তকে আটক করে এবং ১৯ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করে আদালতে পেশ করে। ধৃত ব্যক্তির নাম অনিল শেষরাও শিন্ডে (২৮), যিনি কালওয়ার খারেগাঁওয়ের স্থায়ী বাসিন্দা। পুলিশি জেরায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। জানা গিয়েছে যে অনিল পেশায় একজন সাধারণ ভিক্ষুক এবং সে আদতে কোনো রূপান্তরকামী নয়। কিন্তু ভিক্ষাবৃত্তি করার সময় লোক ঠকানোর জন্য এবং সহজে মানুষের সহানুভূতি পাওয়ার উদ্দেশ্যে সে রূপান্তরকামীর রূপ ধারণ করত।
গ্রেপ্তার হওয়ার পরেও ভুক্তভোগী বিমানসেবিকা চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন, কারণ অভিযুক্ত তাঁকে নানা ধরনের অশুভ পরিণতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে গেছে। মুম্বই পুলিশের পক্ষ থেকে এই ঘটনার পর সাধারণ নাগরিকদের প্রতি কড়া সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। পুলিশের তরফ থেকে বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে যাতে কোনো অচেনা ব্যক্তি, ভিক্ষুক বা সন্দেহভাজনকে চটজলদি বাড়ির অন্দরে প্রবেশ করতে না দেওয়া হয় এবং প্রত্যেকেই যেন সর্বদাই সতর্ক থাকেন।