কাজ হওয়ার আগেই পকেটে ৭ কোটি টাকা! আরামবাগ পুরসভার সোলার কেলেঙ্কারিতে জালে স্বপন নন্দী

কয়লা বা বালি চুরি নয়, এবার তৃণমূল শাসিত আরামবাগ পুরসভার বিরুদ্ধে উঠল খোদ সৌর বিদ্যুৎ চুরির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। এই দুর্নীতিতে সরাসরি নাম জড়িয়েছে আরামবাগ পুরসভার তৃণমূল চেয়ারম্যান স্বপন নন্দীর। দীর্ঘ টালবাহানার পর অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন তিনি। প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই সরকারি কোষাগারের প্রায় ৭ কোটি ৪৬ লক্ষ ৩৭ হাজার ৯৮৭ টাকা ৪০ পয়সা একটি বেসরকারি সংস্থাকে পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

কী এই গ্রিন সিটি মিশন দুর্নীতি?
পরিকল্পনা ছিল অত্যন্ত মহৎ। আরামবাগ পুরসভা এলাকার ৩৩টি প্রাথমিক এবং ১১টি আপার প্রাইমারি স্কুলে সোলার প্যানেল বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। লক্ষ্য ছিল স্কুলগুলোর বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ করা এবং বাড়তি বিদ্যুৎ বিক্রি করে পুরসভার কোষাগার মজবুত করা। কিন্তু সেই লক্ষ্য পূরণ তো দূরের কথা, বরং জনস্বার্থের এই প্রকল্পকে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করা হয়েছে বলে অভিযোগ।

দুর্নীতির নেপথ্য কাহিনি:
তদন্তে জানা গিয়েছে, এই সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য ২০১৭ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ই-টেন্ডার ডাকা হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ, টেন্ডার ডাকার আগেই নির্দিষ্ট বেসরকারি সংস্থা ‘পি অ্যান্ড টি কনস্ট্রাকশন’ পুরসভার চেয়ারম্যানের সঙ্গে গোপন বৈঠকে বসে কাজের দায়িত্ব নিশ্চিত করে নিয়েছিল। পরবর্তীতে কেবল লোকদেখানো ই-টেন্ডারের মাধ্যমে ওই সংস্থাটিকেই বরাত দেওয়া হয়।

চুক্তি অনুযায়ী কাজ হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে অধিকাংশ স্কুলে কোনো সোলার প্যানেলই বসানো হয়নি। অথচ অবাক করা বিষয় হলো, কাজ শেষ হয়েছে—এই মর্মে সার্টিফিকেট ইস্যু করে পুরো ৭ কোটি ৪৬ লক্ষ টাকা ওই সংস্থাকে মিটিয়ে দেওয়া হয়। ২০২২ সালের অডিট রিপোর্টে এই জালিয়াতি প্রথম প্রকাশ্যে আসে। অডিট রিপোর্টে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয় যে, অধিকাংশ স্কুলেই কোনো প্যানেল বসানো হয়নি। যে কয়েকটি স্কুলে নামমাত্র প্যানেল বসানো হয়েছিল, তা রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পড়ে রয়েছে এবং উল্টে স্কুল ভবনেরই ক্ষতি করছে। ছাত্রছাত্রীদের জন্য সেগুলো বর্তমানে বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দুর্নীতি প্রকাশ্যে আসার পর তৎকালীন তৃণমূল সরকার কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ। অবশেষে আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে স্বপন নন্দীকে গ্রেপ্তার করায় আরামবাগ পুরসভার অন্দরের আরও অনেক গোপন জালিয়াতি বেরিয়ে আসতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ। বর্তমানে অভিযুক্ত চেয়ারম্যানকে জেরা করে এই দুর্নীতির শিকড় কতটা গভীরে বিস্তৃত, তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে পুলিশ।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy