“কারও বাপের দেশ নয়!” গাড়ির মাথায় দাঁড়িয়ে উস্কানি আইনজীবীর? কে এই যুবক?

ফের অগ্নিগর্ভ মালদহ। কালিয়াচক ২ নম্বর ব্লক অফিসের সামনে ৯ ঘণ্টা ধরে ৩ মহিলা-সহ ৭ জন বিচার বিভাগীয় আধিকারিককে ঘেরাও করে রাখার ঘটনায় তোলপাড় গোটা দেশ। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়াকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই জনরোষের নেপথ্যে উঠে আসছে এক চাঞ্চল্যকর নাম— মোফাক্কেরুল ইসলাম

গাড়ির বনেটে দাঁড়িয়ে চরম হুঁশিয়ারি!

ভাইরাল ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, উত্তেজিত জনতার মাঝে একটি গাড়ির মাথায় দাঁড়িয়ে আঙুল উঁচিয়ে ভাষণ দিচ্ছেন এক ব্যক্তি। তাঁর প্রতিটি কথায় পড়ছে হাততালির ঝড়। আর সেই ব্যক্তিই হলেন কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী তথা রাজনীতিক মোফাক্কেরুল ইসলাম। তাঁকে বলতে শোনা যায়, “এটা আমার বাপের দেশ, কেউ বললেও দেশ ছেড়ে যাব না। কোনো DM, SP এসে বললেও না!” অভিযোগ উঠছে, সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে হাতিয়ার করে উস্কানিমূলক মন্তব্যের মাধ্যমে এই অশান্তি সংগঠিত করেছেন তিনিই।

কে এই মোফাক্কেরুল ইসলাম?

পেশায় আইনজীবী হলেও মোফাক্কেরুলের রাজনৈতিক পরিচয় যথেষ্ট সক্রিয়। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ইটাহার কেন্দ্র থেকে AIMIM (মিম)-এর প্রার্থী হয়েছিলেন তিনি। সেই সময় উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে ‘গাধা’ ও ‘ন্যাড়া’ বলে কটাক্ষ করে বিতর্কের শিরোনামে এসেছিলেন তিনি। রাজনৈতিক মহলের মতে, কালিয়াচক, মোথাবাড়ি ও সুজাপুরের বাসিন্দাদের একজোট করে বিচারকদের ঘেরাও করার ব্লু-প্রিন্ট মোফাক্কেরুলেরই মস্তিষ্কপ্রসূত।

কেন উত্তপ্ত কালিয়াচক?

SIR প্রক্রিয়ার পর প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে বহু মানুষের নাম বাদ পড়েছে। নির্বাচন কমিশন ৫২ লক্ষ নামের নিষ্পত্তির দাবি করলেও বাস্তবে বহু ভোটার ব্রাত্য থেকে গিয়েছেন। এই ইস্যুকেই হাতিয়ার করে বৃহস্পতিবার কালিয়াচকে তাণ্ডব চালায় উত্তেজিত জনতা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, খোদ সুপ্রিম কোর্ট রাজ্য প্রশাসনকে তীব্র ভর্ৎসনা করেছে।

চাপের মুখে প্রশাসন, তদন্তে NIA

মালদহ কাণ্ডের গুরুত্ব বুঝে ইতিমধ্যেই তদন্তভার NIA-এর হাতে তুলে দিয়েছেন স্পেশাল অবজার্ভার জ্ঞানেশ কুমার। আজই কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা রাজ্যে পৌঁছাতে পারেন। এদিকে এই ঘটনায় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা:

  • শুভেন্দু অধিকারী: বিরোধী দলনেতার অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে উস্কানি দিচ্ছেন।

  • মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: তৃণমূল সুপ্রিমোর দাবি, নির্বাচন কমিশন ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ায় তিনি প্রশাসনের কিছু জানেন না। তবে এই ঘটনার জন্য তিনি ঘুরিয়ে কংগ্রেস ও আসাদউদ্দিন ওয়েইসির দলকেই দায়ী করেছেন।

  • সুপ্রিম কোর্ট ও কমিশন: প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এই ঘটনায় কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন। মুখ্যসচিব ও ডিজি-কে তলব করেছে নির্বাচন কমিশন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন মোফাক্কেরুল ইসলামকে গ্রেফতারের দাবি তুঙ্গে। একজন আইনজীবী হয়ে কীভাবে তিনি আইন হাতে তুলে নেওয়ার প্ররোচনা দিলেন, তা নিয়ে উঠছে বড়সড় প্রশ্ন। কালিয়াচকের এই ‘মাস্টারমাইন্ড’ এখন কেন্দ্রীয় সংস্থার র‍্যাডারে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy