কামরায় উপচে পড়া পুরুষ যাত্রী, আতঙ্কের শেষ মেসেজ! বিশাখাপত্তনম থেকে ফেরা তরুণীর রহস্যমৃত্যুতে চাঞ্চল্য

নাচের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে যাওয়া এক তরুণীর রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এই মুহূর্তে অসমে চরম চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কামরূপ জেলার বাসিন্দা এবং গুয়াহাটির খ্যাতনামা বি-বড়ুয়া কলেজের বিশ বছরের ওই তরুণী একটি নৃত্যশিল্প দলের সঙ্গে বিশাখাপত্তনমে পারফর্ম করতে গিয়েছিলেন। আগামী ১০ অক্টোবর গুয়াহাটিতে তাঁর একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাঙ্কের পরীক্ষায় বসার কথা ছিল। সেই পরীক্ষার প্রস্তুতি এবং উপস্থিত থাকার তাগিদেই দল থেকে আলাদা হয়ে তিনি একাই বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় তিনি প্রথমে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে শিলচর এক্সপ্রেসের তৎকাল টিকিট কাটার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু কনফার্ম টিকিট না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে তিনি বিশাখাপত্তনম স্টেশন থেকেই ২২৫০৩ নম্বর ডিব্রুগড় বিবেক এক্সপ্রেসে সওয়ার হন। পরিবারের দাবি অনুযায়ী, গত ৫ অক্টোবর রাত ১১টা ৫০ মিনিট নাগাদ তিনি ট্রেনের এস-২ কামরায় ওঠেন। ট্রেন ছাড়ার পর থেকেই তিনি নিয়মিত বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন। কিন্তু কিছুক্ষণ বাদেই ট্রেনের ভেতরে মারাত্মক ভিড় এবং কামরার অধিকাংশ যাত্রী পুরুষ হওয়ায় তাঁর মধ্যে চরম ভয় ও উৎকণ্ঠা কাজ করতে শুরু করে। পরিবারের কাছে পাঠানো তাঁর শেষ মেসেজে তিনি সেই ভয়ের কথাই স্পষ্ট উল্লেখ করেছিলেন।

এরপর থেকেই তাঁর সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগ চিরতরে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পুলিশের রেকর্ড অনুযায়ী, গত ৬ অক্টোবর দুপুর দেড়টা নাগাদ পরিবারের সঙ্গে তাঁর শেষ কথা হয়েছিল, আবার পরিবারের দায়ের করা এফআইআর অনুযায়ী মঙ্গলবার ৬ অক্টোবর রাত ২টা বেজে ৩৯ মিনিটে শেষ কথোপকথন হয়েছিল। মেয়ের কোনো রকম সন্ধান না পেয়ে উদ্বিগ্ন মা তৎক্ষণাৎ গুয়াহাটি সরকারি রেল পুলিশ (GRP)-এর দারস্থ হন এবং নিখোঁজ ডায়েরি করেন। পাশাপাশি রেলওয়ের জরুরি হেল্পলাইন নম্বর ১৩৯, অসম আরপিএফ (RPF) এবং স্থানীয় থানাতেও দ্রুত বিষয়টি জানানো হয়। অভিযোগ পাওয়ার পরই নড়েচড়ে বসে রেল পুলিশ। বিবেক এক্সপ্রেসের নির্দিষ্ট এস-২ কামরা থেকে তল্লাশি চালিয়ে তরুণীর বহুমূল্য ব্যাগ এবং তাঁর অন্যান্য ব্যক্তিগত জিনিসপত্র অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

এর কিছুক্ষণ পরেই অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীকাকুলাম জেলার মালয়াপুরমের কাছে একটি জঙ্গলঘেরা এলাকার রেললাইনের পাশ থেকে ওই তরুণীর নিথর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এনডিটিভির এক বিশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, আরপিএফ সূত্র নিশ্চিত করেছে যে জঙ্গল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এটি নিছক কোনো দুর্ঘটনা নাকি এর নেপথ্যে কোনো সুপরিকল্পিত অপরাধমূলক বা যৌন হেনস্থার ঘটনা রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কীভাবে চলন্ত ট্রেন থেকে তিনি নিখোঁজ হলেন এবং এই মর্মান্তিক মৃত্যু হল, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র ধোঁয়াশা। বর্তমানে অন্ধ্র ও অসম উভয় রাজ্যের পুলিশ যৌথভাবে এই চাঞ্চল্যকর মামলার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে।