‘ভোটচুরি’-র ৩টি প্রমাণ দিচ্ছি…’, SIR-এর মারাত্মক কারচুপি ফাঁস করে ক্ষোভে ফুঁসলেন ধ্রুব রাঠি?

স্পেশাল ইনটেনসিভ সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া দেশব্যাপী রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অসঙ্গতির আবহে এবার উত্তপ্ত হয়ে উঠল বেঙ্গালুরু। বৃহস্পতিবার শহরের ফ্রিডম পার্কে এসআইআর-এর বিরুদ্ধে এক বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশে সামিল হন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP) ও বিভিন্ন নাগরিক সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত এই ‘পিপলস ট্রাইব্যুনাল’-এ উপস্থিত ছিলেন জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি, প্রখ্যাত অভিনেতা তথা সমাজকর্মী প্রকাশ রাজ সহ একাধিক বিশিষ্ট মুখ। সমাবেশ থেকে সরাসরি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের জোরালো দাবি তোলা হয়।
ভোট চুরির গুরুতর অভিযোগ তুললেন ধ্রুব রাঠি: এদিনের সভা থেকে এসআইআর প্রক্রিয়ার নানা গাফিলতি ও কারচুপির কড়া সমালোচনা করেন ধ্রুব রাঠি। তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমি কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের হয়ে কথা বলছি না, কিন্তু গণতন্ত্রের এই অনিয়ম সকলের ভাবা উচিত।” পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বিস্ফোরক অভিযোগ করেন যে, ভোটের আগেই প্রায় ৭০ হাজার বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল, অথচ নির্বাচন মিটতেই তাঁদের নাম পুনরায় তালিকায় যোগ করা হয়। এর ফলে সেই নাগরিকরা গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ থেকে বঞ্চিত হন। পাশাপাশি, বিহারে ৬৫ লক্ষ মানুষের নাম বাদ পড়া এবং উত্তরপ্রদেশে ১৪ লক্ষ ভোটারের নাম নতুন করে যুক্ত করার পরও নির্বাচন কমিশন কেন স্বচ্ছ তথ্য সামনে আনছে না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করে ধ্রুব রাঠি বলেন, “যাঁরা এই ধরনের অনিয়মের পরেও তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন, তাঁরা দেশের সবচেয়ে বড় শত্রু।”
Bengaluru on fire!!🔥 @dhruv_rathee https://t.co/CqTUNDV2GR
— Abhijeet Dipke (@abhijeet_dipke) October 8, 2026
নাগরিক অধিকারের পক্ষে প্রকাশ রাজের হুঙ্কার: অন্যদিকে, অভিনেতা প্রকাশ রাজ এসআইআর প্রক্রিয়ার তীব্র নিন্দা করে জানান যে, এই লড়াই কেবল ভোটার তালিকা থেকে নাম কেটে বাদ যাওয়ার প্রতিবাদ নয়, বরং এটি সাধারণ মানুষের সাংবিধানিক অধিকার এবং মর্যাদারক্ষার লড়াই।
বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে বেঙ্গালুরু পুলিশের পক্ষ থেকে ফ্রিডম পার্ক চত্বরে কঠোর নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছিল। সাধারণ মানুষ, মহিলা ও ছাত্রছাত্রীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এই আন্দোলন এক ব্যাপক রূপ নিয়েছে। বেঙ্গালুরুর এই সফল কর্মসূচির পরই সিজেপি-র পক্ষ থেকে আন্দোলনকে আরও তীব্র করতে আগামী ১০ অক্টোবর রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে এক মেগা প্রতিবাদ অভিযানের ডাক দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে দেশজুড়ে চরম রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।