“অনুমতির তোয়াক্কা করি না, আন্দোলন হবেই!” যন্তর মন্তরে জমায়েতের হুঙ্কার দিয়ে পুলিশকে চরম চ্যালেঞ্জ সিজেপির

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা এবং ভোটার তালিকা থেকে কোটি কোটি নাম বাদ দেওয়ার মতো গুরুতর দুর্নীতির প্রতিবাদে আগামী কাল শনিবারে দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচি নিয়ে দেশজুড়ে চরম রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। দিল্লি পুলিশ প্রশাসনের তরফ থেকে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, গোটা এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা বলবৎ থাকায় এই প্রতিবাদের কোনো রকম আইনি অনুমতি দেওয়া হয়নি। এমনকি বেআইনি জমায়েত এড়াতে কড়া আইনি ব্যবস্থার হুশিয়ারিও দিয়েছে পুলিশ। তবে প্রশাসনের এই লাল চোখ ও সমস্ত নিষেধাজ্ঞাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নিজেদের অবস্থানে সম্পূর্ণ অনড় রয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)।
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক অত্যন্ত আক্রমণাত্মক সুরে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “আমাদের আন্দোলন হবেই। দেশকে বাঁচাতে আমরা অবশ্যই প্রতিবাদ করব।” তিনি আরও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যন্তর মন্তর তো বিক্ষোভ প্রদর্শনের জন্যই নির্ধারিত একটি সরকারি স্থান। ভারতীয় সংবিধানের ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দেশের প্রতিটি নাগরিকের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ বা বিক্ষোভ করার মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকার রয়েছে। তাহলে এর জন্য আলাদা করে অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন কেন পড়বে? ১৩ কোটি মানুষের ভোট তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার আগে কি তারা আমাদের থেকে অনুমতি নিয়েছিল? আপনারা কি সত্যিই এটা আশা করেন যে, যারা নির্বাচনে সুপরিকল্পিত কারচুপি করছে, তাদের বিরুদ্ধে আমরা কোনো আন্দোলন করব না? এমনটা কখনই হতে পারে না। দেশ এভাবে চলতে পারে না।”
অন্যদিকে, উদ্ভূত চরম আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি সামাল দিতে দিল্লি পুলিশের ডিসিপি সৃষ্টি পাণ্ডে অত্যন্ত কঠোর বার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, এলাকায় ১৬৩ ধারা বলবৎ থাকার কারণে যন্তর মন্তর কিংবা অন্য কোথাও কোনো ধরনের জমায়েত বা বিক্ষোভ প্রদর্শন সম্পূর্ণ বেআইনি হিসেবে গণ্য করা হবে। এ ধরনের কার্যকলাপে অংশ নিলে তা কঠোর আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি হবে। তিনি আন্দোলনকারীদের কড়া ভাষায় সতর্ক করে আবেদন জানিয়েছেন যে, কেউ যেন বেআইনি জমায়েতে অংশ নিয়ে নিজেদের এবং পরিবারের নিরাপত্তা বিঘ্নিত না করেন। সব মিলিয়ে, একদিকে প্রশাসনের কড়া নিরাপত্তা বলয় ও নিষেধাজ্ঞা আর অন্যদিকে সিজেপি-র অনড় জেদের জেরে আগামীকালের যন্তর মন্তর চত্বর এক তীব্র ও বিস্ফোরক সংঘাতের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে রয়েছে।