পন্ডিচেরিতে ভারতীয় বোলিং ঝড়ে ধূলিসাৎ অস্ট্রেলিয়া! অজিদের থামিয়ে সিরিজে কামব্যাক করার সুবর্ণ সুযোগ মেন ইন ব্লু-র

পন্ডিচেরিতে অনুষ্ঠিত ভারত ‘এ’ এবং অস্ট্রেলিয়া ‘এ’-এর মধ্যকার হাই-ভোল্টেজ সিরিজের দ্বিতীয় একদিনের ম্যাচে দুর্দান্ত বোলিং নৈপুণ্য প্রদর্শন করে ভারতীয় বোলাররা প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করে ফেলেছেন। টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ দল নির্ধারিত ওভারের ঠিক এক বল বাকি থাকতেই অর্থাৎ ৪৯.৫ ওভারে মাত্র ২৭৫ রানে অলআউট হয়ে গুটিয়ে যায়। এই ম্যাচে ভারতের বোলিং আক্রমণ এতটাই বৈচিত্র্যময় ও ধারালো ছিল যে, অধিনায়ক তথা বোলারদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অস্ট্রেলিয়ান ইনিংসের কোমর ভেঙে যায়। দলের ব্যবহৃত মোট ছয়জন বোলার প্রত্যেকেই কম করে হলেও অন্তত একটি করে উইকেট শিকার করে অস্ট্রেলিয়াকে একটি বিশাল স্কোর গড়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করেন।
ম্যাচের শুরুতেই অস্ট্রেলিয়া দলের ব্যাটিং লাইনআপে ধাক্কা দেন তরুণ পেসার যশ ঠাকুর। দলীয় ইনিংসের প্রথম ওভারগুলিতেই তিনি সাজঘরে ফিরিয়ে দেন ওপেনার মিশেল ওভেনকে, যাকে ক্যাচ আউট করেন উদীয়মান ফিল্ডার সূর্যাংশ শেডগে। এরপর দলের প্রাথমিক বিপর্যয় সামাল দিতে ক্রিজে আসেন স্যাম কনস্টাস এবং উইকেটকিপার ব্যাটার জশ ফিলিপ। এই দুই ব্যাটার অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও আক্রমণাত্মক ব্যাটিং প্রদর্শন করে দ্বিতীয় উইকেটের জুটিতে মূল্যবান ১০১ রান যোগ করেন। জশ ফিলিপ মাত্র ৫৮ বল মোকাবিলা করে ৮টি চারের সাহায্যে ঝকঝকে ৫৮ রানের একটি ইনিংস খেলেন। শেষ পর্যন্ত বাঁ-হাতি স্পিনার নিশাদ সিন্ধুর বলে ভারত অধিনায়ক ঋতুরাজ গায়কোয়াড়ের নিরাপদ হাতে ক্যাচ দিয়ে তাঁকে প্যাভিলিয়নে ফিরতে হয়।
অন্যদিকে, দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ওপেনার স্যাম কনস্টাস ৮৮ বলে ৭টি চার ও ১টি ছক্কার সাহায্যে ৬৭ রানের একটি ধৈর্যশীল ও কার্যকরী ইনিংস খেলেন। তবে তাঁকে থিতু হতে দেননি পেসার আরশাদ খান, যিনি কনস্টাসকে উইকেটকিপার কুশাগ্ৰের হাতে ক্যাচ আউট করে সাজঘরে ফিরিয়ে দেন। এরপর অস্ট্রেলিয়ান দলের মিডল অর্ডারের হাল ধরার চেষ্টা করেন অধিনায়ক নাথান ম্যাকসুইনি। তিনি ৩২ রানের একটি দরকারী ইনিংস খেলে বেশ সাবলীল দেখাচ্ছিলেন, কিন্তু আরশাদ খান এবং যশ ঠাকুরের নিখুঁত ও মারকাটারি ফিল্ডিং থ্রোয়ের সুবাদে রান আউট হয়ে তাঁকে মাঠ ছাড়তে হয়। ধারাবাহিক এই উইকেটের পতনের ফলে নির্ধারিত বড় রানের লক্ষ্য থেকে কিছুটা দূরেই থেমে যায় অজিরা।
পুরো ইনিংসে ভারতের বোলিং বিভাগ অভাবনীয় শৃঙ্খলা ও কার্যকারিতা প্রদর্শন করেছে। দলের পক্ষে সবথেকে সফল বোলার হিসেবে আবির্ভূত হন আরশাদ খান, যিনি তাঁর কোটার ৯ ওভার বল করে ৫৬ রান খরচ করে একে একে ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট পকেটে পুরে নেন। তাঁর শিকারের তালিকায় ছিলেন স্যাম কনস্টাস, নিখিল চৌধুরী এবং তারকা স্পিনার তানভীর সাঙ্ঘা। এছাড়া পেসার যশ ঠাকুর ৮.৫ ওভার বোলিং করে মাত্র ৪৬ রান দিয়ে দুটি মারাত্মক শিকার করেন। বাকি বোলারদের মধ্যে বিপরাজ নিগম, নিশাদ সিন্ধু, সূর্যাংশ শেডগে এবং অনুকূল রায় প্রত্যেকেই একটি করে উইকেট নিজের নামের পাশে যোগ করেন। উল্লেখ্য, এই তিন ম্যাচের সিরিজে ভারতীয় দল বর্তমানে ০-১ ব্যবধানে পিছিয়ে রয়েছে, কারণ সিরিজের প্রথম ম্যাচে তাদের এক বিশাল হারের সম্মুখীন হতে হয়েছিল। পন্ডিচেরির এই বাঁচা-মরার লড়াইয়ে ২৭৬ রানের মাঝারি টার্গেট তাড়া করে জয় ছিনিয়ে নিয়ে সিরিজে দুর্দান্ত কামব্যাক করতে প্রস্তুত টিম ইন্ডিয়া।