কাঠমিস্ত্রির ছদ্মবেশে নাবালিকাকে ধর্মান্তকরণের চেষ্টা! হাতেনাতে ধরে কান ধরিয়ে বাজারে ঘোরাল স্থানীয়রা

হিমাচল প্রদেশের সিরমৌর জেলার শিল্লাই এলাকায় ঘটে গিয়েছে একটি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ও সংবেদনশীল ঘটনা। অভিযোগ উঠেছে, একটি মুসলিম যুবকদের দল কাঠমিস্ত্রির ছদ্মবেশে এলাকায় এসে ১৭ বছরের এক হিন্দু নাবালিকাকে ধর্মান্তকরণ করে জোরপূর্বক পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের সময়োপযোগী ও কঠোর পদক্ষেপের ফলে সেই ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়ে যায়। স্থানীয় মানুষ অভিযুক্তদের হাতেনাতে ধরে ফেলে এবং জনসমক্ষে তাদের কান ধরিয়ে পুরো বাজার ঘুরিয়ে নিয়ে যায়, যার ফলে গোটা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।

এক স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান যে এই ধরনের বহিরাগত শ্রমিকদের উদ্দেশ্য অন্য কিছু। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্যাতিতা নাবালিকাটি তার ঠাকুমার সঙ্গে থাকত এবং তার পরিবারের অন্য সদস্যরা গ্রামে না থাকার সুযোগটি অভিযুক্তরা সম্পূর্ণভাবে কাজে লাগায়। গত কয়েক মাস ধরে সুকৌশলে ওই যুবকরা মেয়েটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তোলে এবং তাকে ভুল বুঝিয়ে অন্য শহরে নিয়ে যাওয়ার ছক কষেছিল। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই জঘন্য অপরাধের সঙ্গে ছয়জনের একটি দল সরাসরি জড়িত ছিল। তারা মূলত কাঠের কাজের ঠিকাদার বা মিস্ত্রি হিসেবে এলাকায় প্রবেশ করেছিল এবং ধীরে ধীরে মেয়েটির বিশ্বাস অর্জন করে।

ঘটনার দিন রাস্তায় মেয়েটিকে এক অভিযুক্তের সঙ্গে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখে স্থানীয় যুবকরা তাদের পথ আটকায়। পরবর্তীতে গোটা দলটিকে ধরে বাজারের মাঝখান দিয়ে ঘোরানো হয়। এই ঘটনার একটি ভিডিও ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়ের গতিতে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওটিতে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে যে, অভিযুক্তরা কান ধরে মাথা নিচু করে হাঁটছে এবং ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা তাদের ঘিরে রেখেছে। এই ঘটনার পরেই পাহাড়ি ওই শান্ত এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষ বাইরে থেকে আসা শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও পরিচয়পত্র যাচাই নিয়ে জোরালো প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন।

খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং অভিযুক্তদের তৎক্ষণাৎ গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। অন্যদিকে, নির্যাতিতা নাবালিকাকে নিরাপদে উদ্ধার করে তার পুলিশি সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, নাবালিকার বয়স ১৭ বছর হওয়ায় এই ঘটনায় পকসো (POCSO) আইনসহ বিভিন্ন কঠোর ধারায় সুনির্দিষ্ট মামলা রুজু করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে, এই ব্যক্তিরা বিভিন্ন জায়গায় কাঠের কাজের নাম করে অসৎ কার্যকলাপ চালাতে পারে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনার পর গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং পাহাড়ি এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে প্রশাসনকে বহিরাগত শ্রমিকদের ওপর কঠোর নজরদারি বাড়ানোর কড়া দাবি জানিয়েছেন।