কাটমানির জেরে বাতিল গরিবের নাম, ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পে দুর্নীতিতে কোণঠাসা তৃণমূল, মালদার চাঁচলে ব্যাপক বিক্ষোভ

কেন্দ্রের আবাস যোজনার অর্থ বন্ধের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বপ্নের প্রকল্প ‘বাংলার বাড়ি’ এখন রাজ্য রাজনীতিতে নতুন কাঁটা হয়ে দেখা দিয়েছে। এই প্রকল্পের শুরু থেকেই কাটমানি ও দুর্নীতির নানাবিধ অভিযোগ উঠছিল, যা এবার মালদার চাঁচলে চরম আকার ধারণ করেছে। অভিযোগ উঠেছে, ব্লক অফিসের কর্মীরা সরাসরি উপভোক্তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের কাটমানি দাবি করছেন। টাকা দিতে না পারলেই তালিকা থেকে বাদ যাচ্ছে গরিব মানুষের নাম।
এর আগে হরিশ্চন্দ্রপুর, রতুয়া এবং কালিয়াচক ৩ নম্বর-সহ বিভিন্ন ব্লকে স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে কাটমানি চাওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। এবার সরাসরি চাঁচল ১ নম্বর ব্লক অফিসের কর্মীরাই এই অভিযোগে অভিযুক্ত।
‘২০ হাজার টাকা না-দিলে নাম বাদ’: গরিবদের অভিযোগ
চাঁচলের বঞ্চিত উপভোক্তাদের অভিযোগ, ব্লক অফিসের কর্মীরা ঘরের সমীক্ষা করতে গিয়ে খুল্লমখুল্লা ২০ হাজার টাকা করে কাটমানি দাবি করছেন। গরিব মানুষ সেই টাকা দিতে না পারায় তালিকা থেকে তাঁদের নাম ছেঁটে ফেলা হয়েছে।
চাঁচলের পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা কৃষ্ণ দাস নামের এক শিক্ষিত যুবক জানান, “তালিকায় আমার নাম ছিল। ব্লকের অফিসার কুন্তলবাবু ও তাঁর সহকারী বাপিবাবু টাকা দাবি করেন। আমি জানাই, আমার টাকা দেওয়ার সামর্থ্য নেই। এরপর আমি চিকিৎসার জন্য বাইরে গিয়েছিলাম। ফিরে এসে দেখি, তালিকা থেকে আমার নাম বাদ।” একই বক্তব্য এলাকার বাসিন্দা কবিতা দাসেরও, যাঁর ভাঙা চাটাইয়ের ঘরে পলিথিন দিয়ে কোনোমতে মাথা গোঁজার ব্যবস্থা। তিনি বলেন, “আমি দিন আনি দিন খাই। অত টাকা দেব কোত্থেকে? সেকথা জানানোর পরই আমার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।” প্রতিবাদে তাঁরা বিডিও অফিসের সামনে বিক্ষোভও দেখান।
শাসকদলের নেতৃত্বও ক্ষুব্ধ
শুধু উপভোক্তা নন, এই দুর্নীতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শাসকদলের নেতৃত্বও। চাঁচল ১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সহকারী সভাপতি জাকির হোসেনও ব্লকের আধিকারিক ও কর্মীদের দিকে আঙুল তুলেছেন। তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী গরিব মানুষের ঘরের ব্যবস্থা করেছেন। কিন্তু ব্লকের একশ্রেণির কর্মী এই গরিব মানুষদের নিয়ে ছেলেখেলা করছেন। আমাদের কাছে খবর আছে, টাকা নেওয়ার পরেও আধিকারিকরা অনেকের নাম কেটে দিয়েছেন। এভাবে তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর বদনাম করছেন। আমরা বিডিওর কাছে এর বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাব।”
অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে চাঁচল ১ নম্বর ব্লকের বিডিও পৌষালী চক্রবর্তীকে জিজ্ঞাসা করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি। ফোন ধরেননি জেলাশাসক প্রীতি গোয়েলও। জেলার রাজনৈতিক মহলের মতে, দুর্নীতির কারণে মুখ্যমন্ত্রীর চ্যালেঞ্জের এই প্রকল্পটি মুখ থুবড়ে পড়ার জোগাড়, যা ২০২৬ সালের ভোটে তৃণমূলের জন্য বড় কাঁটা হতে পারে।