গাজায় ইসরায়েলের তীব্র বিমান হামলা, ২৪ ফিলিস্তিনি নিহত, শিশুদের মৃত্যুতে বাড়ছে মানবিক উদ্বেগ

ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর একের পর এক হামলায় গাজা উপত্যকায় উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। হামাসকে লক্ষ্য করে চালানো এই বিমান হামলায় গাজার স্বাস্থ্য বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কমপক্ষে ২৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৫৪ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বেসামরিক নাগরিক ও শিশু রয়েছে, যা এই হামলার মানবিক প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (IDF) দাবি করেছে যে তারা এই হামলায় পাঁচজন সিনিয়র হামাস নেতাকে হত্যা করতে সক্ষম হয়েছে। ইসরায়েলের বক্তব্য অনুযায়ী, এই হামলাটি ছিল সুপরিকল্পিত এবং গভীর গোয়েন্দা তথ্যের উপর ভিত্তি করে চালানো, যার প্রধান লক্ষ্য ছিল হামাসের নেতৃত্ব কাঠামোকে ভেঙে দেওয়া।
হামাস নেতা ও শান্তি আলোচনা
ইসরায়েল দাবি করেছে, নিহত এই সিনিয়র নেতারা শুধু হামাস যোদ্ধাই ছিলেন না, বরং তারা গাজা শান্তি আলোচনাতেও সক্রিয় ভূমিকা রাখতেন এবং ভবিষ্যতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আক্রমণের পরিকল্পনায় অংশ নিতেন। ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী তাদের হামলায় হামাস যোদ্ধাদের ও তাদের কমান্ড কাঠামোকে আঘাত করার লক্ষ্যের কথা জানিয়েছে।
অন্যদিকে, গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে নিহতদের মধ্যে বেসামরিক নাগরিক, এমনকি বহু শিশুও রয়েছে। আহতদের অনেকেই গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যা সংকটের মধ্যে থাকা হাসপাতালগুলোর ওপর আরও চাপ বাড়াচ্ছে।
হামাস এই আক্রমণকে “সামাজিক ও রাজনৈতিক সহিংসতার অংশ” হিসাবে বর্ণনা করেছে এবং একে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে পরিচালিত এক কাল্পনিক নৃশংসতার ধারণার উদাহরণ বলে দাবি করেছে।
আন্তর্জাতিক স্তরে এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বেশ কয়েকটি দেশ এবং সংস্থা অবিলম্বে এই সহিংসতা বন্ধ করে শান্তি প্রক্রিয়া পুনরুজ্জীবিত করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আহ্বান জানিয়েছে।