কাজের প্রলোভনে নারী পাচার চক্র? শিলিগুড়িতে ৩৪ যুবতী উদ্ধার, গ্রেফতার ৩

উত্তরবঙ্গের বন্ধ ও রুগ্ন চা বাগান অঞ্চলের যুবতীদের কাজের প্রলোভন দেখিয়ে ভিনরাজ্যে পাচারের অভিযোগে শিলিগুড়িতে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রবিবার বিকেলে এসএসবির তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে শিলিগুড়ি বাস টার্মিনাস থেকে ৩৪ জন যুবতীকে উদ্ধার করেছে শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের প্রধাননগর থানার পুলিশ। এই ঘটনায় মেটেলির পেট্রাস বেক, শিলিগুড়ির গৌতম রায় এবং জনতানগরের জয়শ্রী পাল নামে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে, ধৃতদের দাবি, তারা কোনো বেআইনি নারী পাচারের সঙ্গে যুক্ত নন, বরং চা বাগানে রোজগার না থাকায় যুবতীদের চাকরির ব্যবস্থা করছিলেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া যুবতীরা মূলত নাগরাকাটা, মেটেলি, বানারহাট-সহ ডুয়ার্সের চা বাগান অধ্যুষিত এলাকার বাসিন্দা। তাদের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে কোয়েম্বাটুরে একটি কাপড়ের সংস্থায় সেলাইয়ের কাজে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। ধৃতদের সোমবার শিলিগুড়ি আদালতে তোলা হলে পাঁচদিনের পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানানো হয়।

শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের ডিসিপি বিশ্বচাঁদ ঠাকুর জানান, “৩৪ জন যুবতীকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। কিছু চাকরির নথি উদ্ধার হয়েছে, সেগুলো যাচাই করা হচ্ছে। ঘটনায় আর কেউ জড়িত রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি মানব পাচার রুখতে বিভিন্ন এলাকায় সচেতনতা শিবিরও করা হয়।” রেল পুলিশের সুপার কুনওয়ার ভূষণ সিং বলেন, “আমরাও কমিশনারেটের সঙ্গে মিলে ওই ঘটনায় ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করব।”

তবে, ধৃত গৌতম রায় নিজের নির্দোষিতা দাবি করে বলেন, “আমরা কোনও অন্যায় বা বেআইনি কাজ করিনি। প্রত্যেকের চাকরির নথি রয়েছে। আমাদের ফাঁসানো হচ্ছে। প্রত্যেক যুবতী আঠারো বছরের ঊর্ধ্বে। প্রত্যেকের চাকরি বেছে নেওয়ার অধিকার রয়েছে। চাকরি সংক্রান্ত সমস্ত নথি আমরা পুলিশকে জমা দিয়েছি। এখন চা বাগান বন্ধ থাকায় রোজগার নেই। এতে আমাদের কিছু করার নেই। আমার পুলিশ ও আইনের উপর আস্থা রয়েছে।” গৌতম রায়ের মা চাঁদনি রায়ও তার ছেলের নির্দোষিতা দাবি করেছেন।

প্রসঙ্গত, গত ২১শে জুলাই নিউ জলপাইগুড়ি রেল স্টেশনেও ক্যাপিটাল এক্সপ্রেসে অভিযান চালিয়ে একইরকমভাবে ৫৬ জন যুবতীকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে পাচারের আগে উদ্ধার করেছিল রেল পুলিশ। ওই ঘটনাতেও তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল এবং জানা যায় যে তাদের তামিলনাড়ুর হুসুর জেলার একটি ইলেকট্রনিকস সংস্থায় চাকরি দেওয়ার নামে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।

সাতদিনের মধ্যে পরপর দুটি একই ধরনের ঘটনা এটা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তরাই ও ডুয়ার্স এলাকার বন্ধ ও রুগ্ন চা বাগান অঞ্চলের দারিদ্র্যকে কাজে লাগিয়ে পাচারকারীরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা ভিনরাজ্যে মোটা টাকার চাকরির প্রলোভন দেখাচ্ছে এবং ক্ষেত্রবিশেষে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের নকল নথি ব্যবহার করে বিশ্বাস অর্জন করছে। পুলিশ এই পাচার চক্রগুলির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে সচেতন করার উপর জোর দিচ্ছে। উদ্ধার হওয়া যুবতীদের ইতিমধ্যেই তাদের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy