কাজের প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণ এবং পরে ১০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ চাওয়ার এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় বনগাঁ থানার তৎপরতায় কোচবিহার থেকে উদ্ধার করা হলো পেট্রাপোল থানার হরিদাসপুর এলাকার বাসিন্দা আলমগীর মুন্সিকে।
অপহরণের নেপথ্যের ঘটনা
জানা গিয়েছে, বনগাঁর ভিড়ের বাসিন্দা সাদ্দাম মণ্ডল নামের এক ব্যক্তি কাজ পাইয়ে দেওয়ার নাম করে আলমগীর মুন্সিকে বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। পরিবারের অভিযোগ, সাদ্দাম প্রথমে আলমগীরকে শিলিগুড়িতে নিয়ে যায় এবং সেখানে সুমন বর্মন ও সুজন বর্মনের হাতে তুলে দেয়।
এরপর এই দুই ব্যক্তি আলমগীরকে কোচবিহারের বাসিন্দা একরামুল হক-এর কাছে দিয়ে আসে। একরামুল হক সেখানে আলমগীরকে মাছের ব্যবসায় কাজে লাগায়।
মুক্তিপণ দাবি ও উদ্ধার
-
অভিযোগ, আলমগীর মুন্সি যখন বাড়ি ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেন, তখনই তাঁর পরিবারের কাছে ১০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
-
আলমগীর মুন্সি ফোন করে বাড়িতে বিষয়টি জানালে তাঁর পরিবার দ্রুত বনগাঁ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।
-
অভিযোগ পেয়েই বনগাঁ থানার পুলিশ অত্যন্ত তৎপর হয় এবং কোচবিহারের একরামুল হকের বাড়িতে অভিযান চালায়।
-
পুলিশ সেই বাড়ি থেকেই আলমগীর মুন্সিকে উদ্ধার করে এবং এদিন নিরাপদে তাঁকে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
উদ্ধার হওয়া অপহৃতের মেয়ে মৌসুমী শেখ বলেন, “বাবাকে ফিরে পেয়ে আমরা খুবই খুশি। ভয় ও আতঙ্কে ছিলাম। পুলিশের সহায়তা না পেলে হয়তো বাবাকে পেতাম না।” ঘটনার পর পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়েছে আলমগীরের পরিবার।
যদিও ঘটনার মূল অভিযুক্তরা (সাদ্দাম মণ্ডল, সুমন বর্মন, সুজন বর্মন এবং একরামুল হক) এখনও পলাতক বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনার নেপথ্যে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী দল।