সীমান্ত সুরক্ষায় এবার আকাশপথে ভারতকে রুখে দেওয়া কার্যত অসম্ভব হতে চলেছে। চীনের সাথে সীমান্ত সংঘাত এবং সামগ্রিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে নিজেদের সামরিক পরিকাঠামোকে আরও আধুনিক করতে বড় পদক্ষেপ নিল নয়াদিল্লি। ভারতের এই রণকৌশলকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে ৪২৮ মিলিয়ন ডলারের এক বিশাল সামরিক ও প্রতিরক্ষা চুক্তিতে চূড়ান্ত অনুমোদন দিল মার্কিন প্রশাসন।
মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সদর দফতর পেন্টাগন (Pentagon) সূত্রে খবর, এই চুক্তির মূল অংশ জুড়ে রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক এবং নিখুঁত যুদ্ধবিমান হিসেবে পরিচিত এএইচ-৬৪ই (AH-64E) অ্যাপাচে হেলিকপ্টার-এর আধুনিকীকরণ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং আনুষঙ্গিক ঘাতক অস্ত্রশস্ত্র সরবরাহ। এই চুক্তির ফলে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে থাকা অ্যাপাচে হেলিকপ্টারগুলির ক্ষমতা আরও কয়েক গুণ বেড়ে যাবে।
কেন এই চুক্তি ভারতের জন্য গেম-চেঞ্জার?
শত্রু শিবিরে নিখুঁত হানা: অ্যাপাচে হেলিকপ্টারগুলি দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলেও (যেমন লাদাখ বা অরুণাচল সীমান্ত) রাতের অন্ধকারে নিখুঁতভাবে শত্রুর বাঙ্কার ও ট্যাঙ্ক উড়িয়ে দিতে সক্ষম।
আমেরিকান প্রযুক্তির ব্যাকআপ: এই চুক্তির ফলে ভারত আগামী কয়েক বছর এই যুদ্ধবিমানগুলির জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ, মিসাইল ও প্রযুক্তিগত সহায়তা সরাসরি আমেরিকার কাছ থেকে পাবে।
যৌথ মহড়া ও কৌশলগত সুবিধা: আমেরিকার এই সিদ্ধান্তের ফলে এশিয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভারত ও আমেরিকার সামরিক বোঝাপড়া আরও একধাপ এগিয়ে গেল, যা নিশ্চিতভাবেই বেজিংয়ের কপালে চিন্তার ভাঁজ বাড়াবে।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মেগা ডিল প্রমাণ করে যে বিশ্বমঞ্চে ভারতের সামরিক গুরুত্ব কতটা বৃদ্ধি পেয়েছে। একদিকে মেক ইন ইন্ডিয়া (Make in India) প্রকল্পের মাধ্যমে দেশে তৈরি হচ্ছে অত্যাধুনিক অস্ত্র, অন্যদিকে আমেরিকার মতো মহাশক্তিধরের এই আধুনিক যুদ্ধাস্ত্রের জোগান ভারতীয় সেনাকে অপরাজেয় করে তুলবে।





