শহরের গণপরিবহন ব্যবস্থায় এক নতুন মাইলফলক ছুঁতে চলেছে কলকাতা। হাওড়া, শিয়ালদা এবং বিমানবন্দরের পর এবার মেট্রো পরিষেবার মানচিত্রে যুক্ত হতে চলেছে গুরুত্বপূর্ণ ‘কলকাতা স্টেশন’। রেল মন্ত্রকের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে করুণাময়ী থেকে সরাসরি কলকাতা স্টেশন পর্যন্ত একটি নতুন মেট্রো রুট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক সমীক্ষার জন্য ইতিমধ্যেই সবুজ সংকেত দিয়েছে রেল মন্ত্রক।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই নতুন মেট্রো রুটটি ক্ষুদিরাম বসু রোড, বাগজোলা খাল এবং সল্টলেক ৬ নম্বর আইল্যান্ড হয়ে করুণাময়ীতে গিয়ে পৌঁছবে। করুণাময়ীতে আগে থেকেই গ্রিন লাইনের মেট্রো স্টেশন থাকায়, এই নতুন রুটটি শহরের অন্যান্য চালু মেট্রো রুটগুলির সঙ্গে অনায়াসে মিশে যাবে। মেট্রো কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, প্রস্তাবিত এই রুটের সিংহভাগ অংশই বাগজোলা খালের ওপর দিয়ে যাবে। ফলে জমি অধিগ্রহণ বা বসতি উচ্ছেদের মতো জটিল সমস্যা ছাড়াই প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। আপাতত ৮ লক্ষ টাকা খরচ করে এই রুটের বিস্তারিত সমীক্ষা চালানো হবে। এই সমীক্ষার রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে রেল মন্ত্রক।
অন্যদিকে, কলকাতা মেট্রোর ‘অরেঞ্জ লাইন’ প্রকল্পে একের পর এক জট খুলে যাওয়াতে আশার আলো দেখছে শহরবাসী। দীর্ঘ দু’বছর ধরে চিংড়িঘাটায় যে মেট্রো প্রকল্পের কাজ থমকে ছিল, বর্তমান রাজ্য সরকারের সদিচ্ছায় তা মাত্র ১২০ ঘণ্টার মধ্যে সমাধান হয়েছে। সেই সাফল্যের পর এবার ভিআইপি রোডের হলদিরাম চত্বরে নির্মাণকাজ চালানোর প্রয়োজনীয় অনুমতিও মিলেছে। অভিযোগ, গত দু’বছর ধরে তৎকালীন রাজ্য সরকারের কাছে বারবার আবেদন জানানো সত্ত্বেও হলদিরাম এলাকায় কাজ করার ছাড়পত্র পাওয়া যায়নি। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরই দ্রুতগতিতে এই জট কাটিয়ে মেট্রো কর্তৃপক্ষকে কাজের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
এই কাজের সুবিধার্থে রেল বিকাশ নিগম লিমিটেড ১৭৫ মিটার দীর্ঘ এবং ৯ মিটার চওড়া একটি নতুন একমুখী রাস্তা তৈরি করেছে, যা ভিআইপি রোডকে চিনার পার্কের সঙ্গে যুক্ত করবে। মেট্রো কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা, আগামী মাস থেকেই এই রাস্তাটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া সম্ভব হবে। দীর্ঘদিন ধরে হলদিরাম উড়ালপুলের কাছে অরেঞ্জ লাইনের শেষ দুটি পিলার বসানো নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছিল, যা এবার মিটে যেতে চলেছে।
উল্লেখ্য, অরেঞ্জ লাইনের শেষ সাড়ে তিন কিলোমিটার অংশ সিটি সেন্টার-২ থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত বিস্তৃত। এই অংশের অধিকাংশ কাজ উড়ালপথেই হচ্ছে, তবে বিমানবন্দরের আগে ৮৫০ মিটার অংশ মাটির নিচ দিয়ে যাবে এবং কৈখালিতে একটি র্যাম্পের মাধ্যমে তা মূল লাইনের সঙ্গে সংযুক্ত হবে। হলদিরামের এই জট কাটার ফলে বিমানবন্দরগামী মেট্রোর কাজ এখন যুদ্ধকালীন তৎপরতায় এগিয়ে চলছে। কলকাতার মানুষের কাছে এই নতুন মেট্রো রুটগুলি কেবল যাতায়াতের সময় কমাবে না, বরং পুরো শহরের অর্থনৈতিক গতিপ্রকৃতিতেও এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞেরা।





