কলকাতা পুরসভার অন্দরে পুলিশের হানা! প্রাক্তন কাউন্সিলর শামস ইকবালকে গ্রেফতার ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য

রাজ্য রাজনীতিতে পটপরিবর্তনের হাওয়া বইতেই একের পর এক দুর্নীতির পর্দা ফাঁস হচ্ছে। কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলরদের গ্রেপ্তারের তালিকায় এবার নতুন সংযোজন ১৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর শামস ইকবাল। ৭০ লক্ষ টাকার তোলাবাজির অভিযোগে গার্ডেনরিচ থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করেছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত শামস ইকবালের এই গ্রেফতারি শাসকদলের অন্দরে নতুন করে অস্বস্তির সৃষ্টি করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৩ সালে দায়ের হওয়া একটি তোলাবাজির মামলার সূত্র ধরে তদন্ত চালাচ্ছিল গার্ডেনরিচ থানা। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর এবং তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখার পরই পুলিশ তাঁকে গ্রেফতারের সিদ্ধান্ত নেয়। অভিযোগ, কেবল তোলাবাজিই নয়, শামস ইকবালের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনেও (Arms Act) মামলা রুজু করা হয়েছে, যা এই গ্রেফতারিকে আরও গুরুতর করে তুলেছে। ধৃতকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন যে, এই তোলাবাজির নেপথ্যে আর কারা কারা জড়িত এবং শহরের ব্যবসায়িক মহলে তাঁর প্রভাব কতটা বিস্তৃত ছিল।
শামস ইকবাল ছাড়াও, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে পুলিশের ধরপাকড় অব্যাহত রয়েছে। এদিন পানিহাটিতে তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন তৃণমূল কাউন্সিলর জয়ন্ত দাস। খড়দহ থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ ছিল যে, জয়ন্ত দাস এলাকায় নিয়মিত তোলাবাজি চালাতেন। আগে প্রশাসন বা পুলিশ অভিযোগ পেলেও কার্যত নীরব থাকত, কিন্তু সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশের এই ‘সক্রিয় ভূমিকা’ স্থানীয়দের মধ্যে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সাম্প্রতিক অতীতে কলকাতা পুরসভার একাধিক প্রাক্তন কাউন্সিলর এবং মেয়র পারিষদ দুর্নীতির দায়ে গ্রেফতার হয়েছেন। তালিকায় সুদীপ পোল্লে, সচিন সিং, অরিজিৎ দাস ঠাকুর, মহেশ শর্মা, বিশ্বজিৎ মণ্ডল, বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্তের মতো হেভিওয়েট নাম রয়েছে। সব মিলিয়ে রাজ্যের শাসকদলের বর্তমান পরিস্থিতি বেশ শোচনীয়। একে একে নেপথ্যের চাঁইদের গ্রেফতারি ও লাগাতার আইনি পদক্ষেপের ফলে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো তৃণমূলকে ‘দুর্নীতির দল’ হিসেবে দেগে দিয়ে আক্রমণ আরও ধারালো করেছে।
শামস ইকবাল ও জয়ন্ত দাসের এই গ্রেফতারি কি কেবল আইনি প্রক্রিয়ার অংশ, নাকি এর পেছনে আরও বড় কোনো রাজনৈতিক সমীকরণ রয়েছে? তা নিয়েও জল্পনা চলছে। পুলিশের দাবি, তোলাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে সরকার। এখন ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারীরা আর কোন কোন রাঘব-বোয়ালের নাম বের করতে পারেন, সেটাই দেখার।