কলকাতার দোরগোড়ায় মারণ ‘নিপা’র থাবা! আক্রান্ত দুই নার্স, রাজ্যজুড়ে হাই-অ্যালার্ট জারি

বাংলার জনমানসে ফের দানা বাঁধছে ২০০১ সালের সেই ভয়াবহ স্মৃতি। দীর্ঘ বছর পর রাজ্যে আবারও খোঁজ মিলল মারণ ‘নিপা’ ভাইরাসের। এবার সংক্রমণের কেন্দ্রস্থল কলকাতার একেবারে সন্নিকটে বারাসাত। সোমবার নবান্নে এক জরুরি সাংবাদিক বৈঠক করে এই দুঃসংবাদ জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী ও স্বাস্থ্য সচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগম। জানা গিয়েছে, বারাসাতের দুই নার্স এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

সূত্রের খবর, আক্রান্তদের রক্তের নমুনা কল্যাণী এইমস-এর ল্যাবে পরীক্ষার পর নিপা সংক্রমণের প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে। চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণের জন্য নমুনা পুণের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজিতে (NIV) পাঠানো হয়েছে। এই খবর চাউর হতেই আতঙ্ক ছড়িয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুততার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলায় একগুচ্ছ নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।

শীতের আমেজে বিষ ছড়াচ্ছে কি খেজুরের রস? জনপ্রিয় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সুবর্ণ গোস্বামীর মতে, শীতকালে নিপা ভাইরাসের দাপট বাড়ার প্রধান কারণ খেজুরের রস। বাদুড় এই ভাইরাসের প্রধান বাহক। উঁচু গাছে বেঁধে রাখা হাঁড়ি থেকে বাদুড় যখন রস খায়, তখন তাদের লালা বা দেহরস সেই পানীয়তে মিশে যায়। সেই দূষিত রস মানুষ পান করলেই শরীরে বাসা বাঁধে মারণ ভাইরাস। বিশেষজ্ঞরা পরিষ্কার জানিয়েছেন, এই মরসুমে সরাসরি গাছ থেকে নামানো কাঁচা খেজুরের রস পান করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তবে আশার কথা হলো, গুড় তৈরির সময় উচ্চ তাপমাত্রায় রস ফোটানো হয় বলে খেজুরের গুড়ে এই সংক্রমণের আশঙ্কা প্রায় নেই বললেই চলে।

উপসর্গ ও মৃত্যুহার নিয়ে উদ্বেগ: নিপা ভাইরাসের ক্ষেত্রে উদ্বেগের বিষয় হলো এর উচ্চ মৃত্যুহার। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই ভাইরাসে গড় মৃত্যুর হার প্রায় ৭২ শতাংশ। শুধু তাই নয়, আক্রান্তদের ২৮ শতাংশই অন্য রোগীর সংস্পর্শে এসে সংক্রমিত হয়েছেন। ফলে এটি অত্যন্ত সংক্রামক। জ্বর, মাথাব্যথা, শ্বাসকষ্ট এবং মানসিক অস্থিরতার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষ করে বাদুড়ে খাওয়া ফল বা খোলা আকাশের নিচে রাখা কোনো পানীয় গ্রহণ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গঙ্গাসাগর মেলার আবহে যেখানে লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাগম হচ্ছে, সেখানে এই ভাইরাস যাতে কোনোভাবেই থাবা বসাতে না পারে, সেদিকে কড়া নজর রাখছে প্রশাসন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy