“কলকাতায় সম্পত্তি কেনার পরিকল্পনা”-গ্রেফতার বাংলাদেশি নাগরিক! ২০ বছর ধরে চলছিল জালিয়াতি

প্রায় দুই দশক আগে অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢুকেছিলেন। এরপর ভুয়ো ভারতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে ১১ বছর ধরে কুয়েতে কাজ করছিলেন। অবশেষে মুম্বই বিমানবন্দরে ধরা পড়লেন সেই বাংলাদেশি নাগরিক। সাহার থানার পুলিশ অভিযুক্ত ইকলাজ মোল্লাকে গ্রেফতার করেছে।
কীভাবে ধরা পড়লেন অভিযুক্ত? পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃত ইকলাজ মোল্লা ২০০৫ সালে বেআইনিভাবে ভারতে প্রবেশ করেন এবং ভুয়ো ভারতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে কলকাতায় বসবাস শুরু করেন। জাল নথিপত্রের ভিত্তিতে ২০১৪ সালে তিনি কলকাতা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস থেকে একটি ভুয়ো ভারতীয় পাসপোর্ট সংগ্রহ করেন এবং সেই পাসপোর্ট ব্যবহার করেই গত ১১ বছর ধরে কুয়েতে কর্মরত ছিলেন।
সম্প্রতি তিনি কুয়েত থেকে ভারতে ফিরছিলেন। মুম্বই বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন চেকের সময় অফিসারদের চোখে পড়ে তাঁর পাসপোর্টে বারবার বাংলাদেশ সফরের রেকর্ড। সন্দেহজনক আচরণ এবং সাবলীল ভারতীয় ভাষায় কথা বলতে না পারায় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। নিবিড় তল্লাশি ও যাচাই-বাছাইয়ের পর প্রকাশ পায় যে, তিনি আসলে একজন বাংলাদেশি নাগরিক এবং দীর্ঘ দিন ধরে জাল নথি ব্যবহার করে ভারতীয় নাগরিক সেজে বসবাস করছেন।
কলকাতায় সম্পত্তি কেনার পরিকল্পনা: পুলিশ জানিয়েছে, এই বাংলাদেশি নাগরিক কলকাতায় সম্পত্তিও কিনেছিলেন। এবং শিগগিরই বাংলাদেশে থাকা তাঁর পরিবারকে ভারতে স্থায়ীভাবে নিয়ে আসার পরিকল্পনা করছিলেন। তবে তাঁর সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হওয়ার আগেই তিনি ধরা পড়ে যান।
তদন্তে জাল নথিপত্র চক্রের ইঙ্গিত: সাহার থানার পুলিশ ইকলাজ মোল্লার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে দেশে প্রবেশ, জাল নথিপত্র রাখা এবং ছদ্মবেশ ধারণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, একটি বড়সড় জাল নথিপত্র চক্র তাঁকে ভারতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্ট পেতে সহায়তা করেছিল। পুলিশ এখন সেই চক্রের সদস্যদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু করেছে।